ইতালির জাতীয় দলের কোচের দৌড় থেকে আন্দ্রেয়া পিরলোর ছিটকে যাওয়ার নেপথ্যে উঠে এসেছে দুই পুরানো বন্ধুর সম্পর্কে ফাটলের এক বিষাদময় অধ্যায়। পিরলোর রুশ যোগসূত্র এবং রাশিয়ার বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে কড়া ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার সাবেক এসি মিলান সতীর্থ, দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং ইউক্রেনীয় ফুটবল ফেডারেশনের বর্তমান সভাপতি আন্দ্রি শেভচেঙ্কো।
সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ক্ষোভের কারণ
এসি মিলানের হয়ে অসংখ্য ট্রফিজয়ী এই দুই তারকা একসময় ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তেইশ বছর আগে ২০০৩ সালে এসি মিলানের জার্সিতে একসঙ্গে ইউরোপ সেরার মঞ্চে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন আন্দ্রেয়া পিরলো ও আন্দ্রি শেভচেঙ্কো। সান সিরোর সেই সোনালী দিনগুলো এখন শুধুই অতীত।
গত মে মাসে মার্কো মাতেরাজ্জি ও ফ্রাঙ্কো তোত্তির সঙ্গে পিরলোর মস্কো সফর এবং পরবর্তীতে রাশিয়ান বেটিং প্রতিষ্ঠান ‘ফনবেট’এর গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে চুক্তি স্বাক্ষর করায় সেই সম্পর্কে চরম ফাটল ধরে।
ঘটনার পরপরই শেভচেঙ্কো ব্যক্তিগতভাবে সফরকারী ফুটবলারদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে খুব কমজনের কাছ থেকেই সাড়া পান তিনি। শেভচেঙ্কো বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান, ইউক্রেনের বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে রাশিয়ান প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো ইভেন্টে অংশ নেওয়া সাধারণ কোনো বিষয় নয় এবং এটাকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
এর পর থেকেই পিরলোর সঙ্গে শেভচেঙ্কোর যাবতীয় বার্তা ও কথোপকথন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির স্বাধীন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বরত শেভচেঙ্কো বন্ধু পিরলোর এই বাণিজ্যিক চুক্তিকে তীব্র কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেছেন, "তোমাকে নিজের বিবেকের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। কারণ রাশিয়া প্রতিনিয়ত ইউক্রেনের নিরপরাধ নাগরিক ও শিশুদের হত্যা করে চলেছে।"
শেভচেঙ্কোর এই চরম অসন্তোষ প্রকাশ ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের ওপর প্রচণ্ড নৈতিক চাপ তৈরি করে। সাবেক সতীর্থের এমন মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বিতর্কের শঙ্কায় তড়িঘড়ি করে পিরলোকে ইতালি জাতীয় দলের নতুন কোচ করার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য হন ফেডারেশন সভাপতি জিওভান্নি মালাগো। আর এই ঘটনাটিই পরবর্তীতে টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের পদ থেকে পাওলো মালদিনি ও লেয়েনার্দোর পদত্যাগের মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।