দীর্ঘ তিন বছরের খরা কাটিয়ে অবশেষে বিদেশে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল পাকিস্তান। ত্রিনিদাদে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ ড্র করেছে বাবর আজমের দল। এই জয়ে অবসান ঘটল লাল বলের ক্রিকেটে তাদের দীর্ঘ বৈদেশিক জয়খরা এবং টানা আটটি অ্যাওয়ে টেস্ট হারের লজ্জাজনক রেকর্ডের।
পোর্ট অব স্পেনে চতুর্থ দিনের সকালে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৭৫ রান। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ৫৯ রানের মধ্যে দুই ওপেনার ইমাম-উল-হক (৯) ও আজান আওয়াইস (১৮) সাজঘরে ফিরলেও কোনো বিপদ হতে দেননি ওপেনার আবদুল্লাহ শফিক ও অধিনায়ক বাবর। দুজনেই অপরাজিত সমান ২৪ রান করে মাত্র ২৪ ওভারের মধ্যেই দলের জয় নিশ্চিত করেন। এর আগে প্রথম ইনিংসে শফিক ১৬০ এবং বাবর ৮৮ রানের দারুণ ইনিংস খেলে দলের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন।
ম্যাচ শেষে অফিশিয়াল সম্প্রচারে জয়ের মুহূর্ত নিয়ে পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর বলেন, ‘জিতলে সবসময়ই ভালো লাগে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা আমাদের পরিকল্পনাগুলো মাঠে ঠিকঠাক বাস্তবায়ন করতে পেরেছি, তা সে প্রথম ইনিংসে আবদুল্লাহ শফিকের ব্যাটিং হোক কিংবা দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিনারদের বোলিং। গত তিন মাস ধরে লাহোরের এনসিএতে (জাতীয় ক্রিকেট একাডেমি) লাল বলের ক্যাম্প করে আমরা এই সিরিজের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।’
ম্যাচে অতিরিক্ত স্পিনার খেলানোর প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘পিচ দেখার পর আমাদের মনে হয়েছিল এটি অনেকটা পাকিস্তানের উইকেটের মতোই। তাই আমরা একজন অতিরিক্ত স্পিনার নিয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিই। এর ফলে আমাদের কম্বিনেশনে প্রভাব পড়েছিল এবং সে কারণেই আমাদের দলের কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে বাইরে রাখতে হয়েছিল।’
এদিকে একই সূত্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তারা অতিরিক্ত স্পিনার নিয়ে নামতে পারতেন কি-না, সেখানে চেজ বলেন, ‘ম্যাচটি হেরে যাওয়া নিশ্চিতভাবেই হতাশাজনক। আমরা চেয়েছিলাম সিরিজটি ২-০ ব্যবধানে জিততে অথবা অন্তত ম্যাচটি ড্র করতে। আমার মনে হয়, আমরা সম্ভবত দলে একজন অতিরিক্ত স্পিনার নিয়ে নামতে পারতাম। নিজের তর্জনীর চোটটিকে আমি কম গুরুত্ব দিয়ে ভেবেছিলাম যে যতটা বোলিং করেছি, তার চেয়ে বেশি করতে পারব। কিন্তু বোলিং করার সময় বেশ ভালোই ব্যথা অনুভূত হচ্ছিল, যে কারণে আমি আর সামনে এগোতে পারিনি।’
এর আগে ম্যাচের তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১০৩ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে বিপাকে থাকা ক্যারিবীয়রা চতুর্থ দিনের সকালে মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে বাকি ৩ উইকেট হারিয়ে ১১৭ রানে অলআউট হয় (ব্র্যান্ডন কিং আহত থাকায় ব্যাটিংয়ে নামেননি)। ফলে পাকিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় সাকল্যে ৭৫ রান। পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণই মূলত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়; দুই স্পিনার আলী উসমান (৪/৩৯) ও সাজিদ খান (৪/৩২) মিলে স্বাগতিকদের দ্বিতীয় ইনিংস ধসিয়ে দেন। তরুণ স্পিনার আলী উসমান তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্য দেখান।
এই জয়ের মাধ্যমে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে কলম্বোয় শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর দীর্ঘ আট ম্যাচ ধরে চলা বিদেশিনামা টেস্টে জয়ের খরা কাটল পাকিস্তানের। সেবার শ্রীলঙ্কা সফরে পাকিস্তানের টেস্ট দলের অধিয়ানক ছিলেন বাবর, আর তিন বছর পর এবারও বাবরের নেতৃত্বেই টানা ৮টি অ্যাওয়ে টেস্টে পরাজয়ের স্বাদের পর জয়ের ধারায় ফিরল পাকিস্তান।
এই সফর শেষ করে এবার ইংল্যান্ডের উদ্দেশে উড়াল দেবে পাকিস্তান দল, যেখানে আগামী ১৯ আগস্ট হেডিংলিতে শুরু হবে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট।