ইংল্যান্ডকে হারানোর দিন এখন আর্জেন্টিনার ‘জাতীয় ফুটবল দল দিবস’

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৮ এএম

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মহাকাব্যিক জয়ের স্মারক হিসেবে প্রতি বছরের ১৫ জুলাইকে ‘জাতীয় ফুটবল দল দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার বুয়েনস আয়ার্সের এজেজা ট্রেনিং কমপ্লেক্সে সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাহী কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

১৫ জুলাই আটলান্টায় অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে উঠেছিল 'লা স্কালোনেতা'। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা স্পেনের কাছে শিরোপা হাতছাড়া করে, তবে দুই শেষ মুহূর্তের গোল (মেসির জোড়া অ্যাসিস্টে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোল) এবং ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে এই ম্যাচটি আর্জেন্টাইন ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

এএফএ-র বিবৃতিতে জানানো হয়, এই স্বীকৃতি কেবল সিনিয়র দলের জন্য নয়; বরং পুরুষ, নারী, যুব, ফুটসাল ও বিচ সকার সহ প্রতিটি জাতীয় দলের কঠোর পরিশ্রম ও প্রতিশ্রুতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।

আলোচনায় সেই ফকল্যান্ডস ব্যানার

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয়ের পর মাঠজুড়ে উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল একটি ব্যানার, যাতে লেখা ছিল: "ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার"।

মাত্র ১০ ডলারের কম খরচে হোটেলের সুতি চাদর, সস্তা রঙ ও তুলি দিয়ে হাতে তৈরি এই ব্যানারটি স্টেডিয়ামে নিয়ে এসেছিলেন ভিলা লুরোর একদল সমর্থক। নিরাপত্তার চোখ ফাঁকি দিয়ে গ্যালারিতে নেওয়া ব্যানারটি পরে স্টেডিয়াম কর্মীদের সহায়তায় মাঠে নামানো হয়। জিওভানি লো সেলসো, নিকোলাস ওতামেন্দি, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও কুটি রোমেরোসহ পুরো দল ব্যানারটি মেলে ধরে সংহতি প্রকাশ করেন।

বর্তমানে ব্যানারটি আর্জেন্টিনা দলের সাথে থাকা ওয়েটার প্যাট্রিও অবেরের হেফাজতে নিরাপদে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইনফোবে জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই ব্যানারটি আনুষ্ঠানিকভাবে ফকল্যান্ডস (মালভিনাস) যুদ্ধের বীর যোদ্ধাদের সংগঠন বা জাদুঘরের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

ফকল্যান্ড আইল্যান্ড আর্জেন্টিনার লেখা সেই ব্যানার

আন্তর্জাতিক বিতর্ক ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া

ম্যাচ শেষে লিয়োন্দ্রো পারেদেস দৃঢ়তার সাথে বলেন, “ফকল্যান্ডস সব সময় আর্জেন্টিনারই থাকবে।” অন্যদিকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ বলেন, “এই ম্যাচটি জেতা ছাড়া আমাদের কাছে আর কোনো পথ ছিল না।”

তবে এই ব্যানার প্রদর্শন কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক ও ক্রীড়া বিতর্ক তৈরি হয়েছে:

  • ফিফার তদন্ত: ২৯ জুলাই ফিফা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি কোড লঙ্ঘনের (ক্রীড়া ইভেন্টকে রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহার) অভিযোগে তদন্ত শুরু করে।
  • যুক্তরাজ্যের প্রতিক্রিয়া: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের মুখপাত্র স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, “বিশ্বকাপ আমাদের নাও হতে পারে, কিন্তু ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জ নিশ্চিতভাবেই আমাদের।” যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞান মন্ত্রী পিটার কাইল এটিকে সম্পূর্ণ অনুচিত আখ্যা দিয়ে নীতিমালার কঠোর প্রয়োগ দাবি করেন।
  • রাষ্ট্রপতি হাভিয়ের মিলেইয়ের মন্তব্য: আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতি হাভিয়ের মিলেই খেলোয়াড়দের এই পদক্ষেপকে "সম্পূর্ণ বৈধ ও আইনি" হিসেবে আখ্যা দেন এবং জানান যে আর্জেন্টিনা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় দ্বীপপুঞ্জ পুনরুদ্ধার করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

মেক্সিকো '৮৬ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার স্মরণীয় পারফরম্যান্সের স্মরণে ২২ জুন যেমন 'ফুটবলার দিবস' পালন করা হয়, তেমনই এখন থেকে ১৫ জুলাই পালিত হবে 'জাতীয় ফুটবল দল দিবস'। আর যে ব্যানারটি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল, তা এখন আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে মর্যাদা পেতে যাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত