হাসিনার পক্ষে তৎপরতা

চার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

গত ৪ ও ৫ আগস্ট বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষাপটে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ অভিযোগ তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংবাদে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরিতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে, বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ নামের একটি অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষক গোপন তৎপরতা ও নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন। তাদের মধ্যে রাজশাহী ও পবিপ্রবির কয়েকজন শিক্ষকের নামও উঠে আসে। এজন্য রাজশাহী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষ জানায়, কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় আইন, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(ঙ) ধারা এবং দ-বিধি, ১৮৬০-এর ১২৪ক ধারাসহ প্রযোজ্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। জানা গেছে, শাস্তি হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরিচ্যুতি বা বরখাস্তের মতো প্রশাসনিক ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর

রাবির ৪২ শিক্ষকের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি : সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর গোপন তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার রাতে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলামের নির্বাহী (অফিস) আদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম-২-কে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. গোলাম ছাদিক, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আমীরুল ইসলাম, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান এবং সদস্য-সচিব হিসেবে এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। প্রতিবেদনে অনেক শিক্ষকের আংশিক নাম ও ডাকনাম ব্যবহার করা হয়েছে। সঠিক ব্যক্তিদের শনাক্ত করতেই পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পবিপ্রবিতেও তদন্ত কমিটি : সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে গোপনে তৎপরতা চালানোর অভিযোগে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, গত ৪ ও ৫ আগস্ট বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যমে, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের গোপন তৎপরতা শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের পরিচয়, কার্যক্রম ও দায় নিরূপণের জন্য উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান, কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. নেছার উদ্দিন আহমেদ এবং রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন।

আদেশে কমিটিকে সত্যানুসন্ধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকা-ে জড়িত শিক্ষকদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তরা বিগত সরকারের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন বা আন্দোলনকারীদের হুমকি-ধমকিতে জড়িত ছিলেন কি না, তাও তদন্ত করতে বলা হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইবির ৪৪ শিক্ষকের রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কর্মকা-ের তদন্তে কমিটি : একই ঘটনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কর্মকা-ে’ জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত বুধবার ইবি রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিতে বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। কমিটিকে আগামী ১২ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়।

বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষক রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কার্যকলাপে জড়িত থাকার প্রতিবেদন সম্পর্কে তদন্তপূর্বক রিপোর্ট প্রদানের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনকে আহ্বায়ক এবং অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-হিসাব পরিচালক মো. ইসরাফুল হককে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

নোবিপ্রবিতে ৩ সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি : এদিকে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কোনো শিক্ষক এ ঘটনায় জড়িত রয়েছেন কি-না, তা অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. তামজিদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গোপন তৎপরতার খবর প্রকাশ পায়। এ প্রেক্ষাপটে নোবিপ্রবির কোনো শিক্ষক এ ধরনের কর্মকা-ে সম্পৃক্ত আছেন কি না, সে বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে এই ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা যায়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর গোপন তৎপরতায় নোবিপ্রবির ৩৮ জন শিক্ষকের নাম উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়। এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তথ্য অনুসন্ধানের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে।