ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেপ্তার ভারতীয় চিত্রপরিচালক শকীল নূরানী। ৭৩ বছর বয়সি এই পরিচালক ‘বড়ে দিল ওয়ালা’ এবং ‘জোরু কা গুলাম’-এর মতো ছবি পরিচালনা করেছেন। তাকে গ্রেপ্তার করে মলবানি থানার পুলিশ। ৩৩ বছর বয়সি এক অভিনেত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যদিও পরিচালকের আইনজীবী এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, নূরানীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিচালকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪(২) (এম), ১২৩, ৩৫১(২) এবং ৮৮ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগকারিণীর দাবি, ২০১৬ সালে লোখন্ডওয়ালায় একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নূরানীর সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয়। অভিনেত্রীকে নিজের একটি আসন্ন ছবির বিষয়ে জানান পরিচালক এবং কাজের জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন বলে অভিযোগ।
পরবর্তী সময়ে একটি চিত্রনাট্য পড়ার জন্য পরিচালকের মলবানির বাড়িতে গিয়েছিলেন বলে এফআইআরে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর অভিযোগ, সেখানে নূরানী তাকে একটি পানীয় দেন। সেই পানীয়ে মাদক মেশানো ছিল বলে অভিযোগ, কারণ সেটি খাওয়ার পরেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফেরার পরে নূরানী তাঁর মোবাইলে একটি ভিডিও দেখান এবং পুলিশে অভিযোগ করলে কিংবা পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানালে সেই ভিডিয়ো ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ অভিনেত্রীর।
অভিযোগকারীর আরও দাবি, ওই ভিডিওকে হাতিয়ার করে পরবর্তী সময়ে তাকে ভয় দেখানো হয় এবং একাধিক বার যৌন নির্যাতন করা হয়। এমনকি যৌন সম্পর্কের পরে পরিচালক তাকে বার বার গর্ভনিরোধক ওষুধ খেতে দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন ওই অভিনেত্রী। পরিচালকের আইনজীবী বিকাশ সিংহ গোর এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, নূরানীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তার বক্তব্য, আদালতে এখনও অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়নি। পুরোটাই তদন্তাধীন। আইন অনুযায়ী দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নূরানীকে নির্দোষ হিসেবেই গণ্য করা হবে।
অভিযোগের তদন্তের স্বার্থে নূরানীকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। ওই নির্দিষ্ট ভিডিয়োটি উদ্ধার করে পরীক্ষা করা, ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই এবং অন্য কোনও কোথাও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তাকে হেফাজত প্রয়োজন বলে জানানো হয়। এর পরেই নূরানীকে বোরিভেলি হলিডে কোর্টে পেশ করা হলে আদালত তাকে ১২ অগস্ট পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়।