বাসাবাড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতি অস্ত্র-ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৪

রাজধানীর হাতিরঝিলের একটি বাসায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবির গুলশান বিভাগ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলোÑ রাকিব (৩২), মো. রাশেদুল হাওলাদার (২৭), জুবায়ের ইসলাম (৪০) ও বিজয় সরকার ওরফে ডেভিড (২৭)। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকালে তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, একটি খেলনা পিস্তল, তিনটি চাপাতি, পাঁচটি ককটেল, একটি স্পাইক ড্যাগার এবং চলচ্চিত্র শুটিং ইউনিটের দুটি পরিচয়পত্র/কার্ড উদ্ধার করা হয়। ছয় সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ওই বাসায় স্বর্ণসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুটের পরিকল্পনা করছিল। ডাকাতির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঘটনার আগের দিন দলটির সদস্যরা সংশ্লিষ্ট এলাকা রেকি করে যায়। বিষয়টি গোয়েন্দা নজরদারিতে আসার পর ডাকাত দলের সদস্যদের অবস্থান ও গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে ছয় সদস্যের ওই ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

সেনাবাহিনী পুলিশ ও র‌্যাব কর্মকর্তার নামে প্রতারণা : সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মঙ্গলবার ভোরে মো. নুরুল চৌধুরী নামে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি রমনা বিভাগ। তার হেফাজত থেকে দুটি ওয়াকিটকি, ২ সেট ওয়াকিটকির চার্জার, ১টি ভুয়া পাসপোর্ট, সেনাবাহিনীর মেজর পরিচয়যুক্ত ১টি ভুয়া আইডি কার্ড, র‌্যাবের কর্নেল পদমর্যাদার ডেপুটি ডিরেক্টর পরিচয়যুক্ত ১টি ভুয়া আইডি কার্ড, ৩টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ধরনের ১০টি পোশাক, সেনাবাহিনীর চিকিৎসা বইসহ বিভিন্ন ফর্ম ও প্যাড, সেনাবাহিনীর মেজর ও পুলিশ সুপার পরিচয়যুক্ত পোশাক পরিহিত পাসপোর্ট সাইজের ছবি, সেনাবাহিনীর ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং চাকরির আবেদন ফরম উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবিপ্রধান জানান, গ্রেপ্তারকৃত নুরুল চৌধুরী তার সহযোগীদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে ‘মেজর আল মামুন, ‘কর্নেল নাজিম’ ও ‘মেজর তানভীর’ পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক, রাঁধুনি, পিয়ন ও বাবুর্চি পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন। চাকরিপ্রত্যাশী বেকার যুবক, রিকশাচালক, শ্রমিক, দিনমজুরসহ নিম্নআয়ের মানুষ ছিল এই প্রতারক চক্রের অন্যতম লক্ষ্য। প্রতারণার মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য তারা ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফরম, পরিচয়পত্র, সেনাবাহিনীর পোশাক ও বিভিন্ন বাহিনীর পোশাক পরিহিত ছবি ব্যবহার করত।