ফাঁসির আসামি হিটুর পক্ষে আইনজীবী মিলছে না

মাগুরায় ৮ বছরের শিশু আছিয়া আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অধস্তন আদালতে ফাঁসির দ-প্রাপ্ত হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্সের ওপর (মৃত্যুদ- অনুমোদনের নথি) শুনানি শুরু করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে পেপারবুক (অধস্তন আদালতের রায়সহ যাবতীয় নথি) থেকে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তবে এদিন আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইমাম হোসেন তারেক দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা শুনানি শুরু করেছি। কিন্তু আসামির পক্ষে শুনানি করার মতো কোনো আইনজীবী নেই। তিনি জানান, হাইকোর্টে মামলাটি আসার পর আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় একজন স্টেট ডিফেন্স ল’ইয়ার (আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী) নিযুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু গত জুন মাসে সেই আইনজীবী জানিয়েছেন, তিনি হিটু শেখের পক্ষে শুনানি করবেন না। অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেন তারেক বলেন, ‘ফাঁসির আসামির পক্ষে শুনানির জন্য অবশ্যই আইনজীবী থাকতে হয়। যদি আইনজীবী না থাকে তাহলে স্টেট ডিফেন্স ল’ইয়ার তার পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, ‘আজ (গতকাল) হাইকোর্ট বলেছেন, যদি কোনো আইনজীবী না আসেন তাহলে স্টেট ডিফেন্স ল’ইয়ার নিযুক্ত করা হবে।’

২০২৫ সালের ৬ মার্চ বৃহস্পতিবার ভোরে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতাল এরপর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। এরপর ৮ মার্চ তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসাপাতালে (সিএমএইচ) প্যাডিয়াট্রিক আইসিইউতে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে থাকা শিশুটির জন্য কয়েক দিন রাজপথে নেমেছিল ছাত্র, শিক্ষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লাখো মানুষ। ধর্ষকদের দ্রুত সর্বোচ্চ বিচারের দাবিতে মুখর হয় সারা দেশ। ১৩ মার্চ দুপুরে শিশুটি মারা যায়।

মামলা এবং অভিযোগ গঠনের পর গত বছরের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি হিটু শেখকে প্রাণদ-াদেশ দেয়। এ ছাড়া শিশুটির বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখকে দ-বিধির ৫০৬ ধারায় (ভয়ভীতি দেখানো) এবং বোনের শাশুড়ি জাহিদা বেগমকে দ-বিধির ২০১ ধারায় (আলামত গোপন) অভিযোগ আনা হলেও তা প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেয় আদালত। আছিয়া হত্যার ঘটনায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর মাত্র ২১ দিনে বিচারকাজ শেষে রায় দেয় অধস্তন আদালত। একই বছরের ২১ মে আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে।