‘কার্ডধারীদের রাজনৈতিকভাবে বাছাইয়ের সুযোগ নেই’

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেছেন, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দেওয়া কার্ডে রাজনৈতিকভাবে বাছাইয়ের সুযোগ নেই। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ১০টির নিচে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ ছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ভবিষ্যতে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এর জন্য সামগ্রিক বাজেটের আকারও বাড়াতে হবে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো : নীতি, অংশীদারত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে গতকাল মঙ্গলবার ‘ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং এসডিজি অর্জন’ অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সাবেক মহাপরিচালক ড. সুলতান হাফিজুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

অধিবেশনে আলোচকদের মধ্যে ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. মনজুর হোসেন, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) জেনারেল সেক্রেটারি ড. শাহেদুল ইসলাম এবং পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের। এ সময় জিইডি, কৃষি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে খাতসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এসডিজি বাস্তবায়নসহ যে নীতিগুলো ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে তথ্য উপাত্তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কোনো ধরনের ডেটা ম্যানিপুলেশন সরকার একেবারেই মেনে নেবে না। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আমরা কতটুকু এগোলাম, তা নিজেদেরই মূল্যায়ন করতে হবে। কিন্তু ম্যানিপুলেটেড ডেটা যদি আমাদের সামনে কোনো বাস্তবতা তুলে ধরে, তাহলে আমরা বুঝতে পারব না যে আমরা এগিয়েছি, নাকি পিছিয়েছি।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড থেকে শুরু করে যতগুলো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে তার লক্ষ্য হচ্ছে, সবার কাছে যাতে সুবিধা পৌঁছায়। এখানে আগের তুলনায় একটি গুণগত পার্থক্য হচ্ছে, কার্ডধারীদের রাজনৈতিকভাবে বাছাইয়ের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। ধীরে ধীরে প্রত্যেকেই এ সুবিধা পাবেন। রাজনৈতিকভাবে হিসাব-নিকাশ করে নিজেদের লোককে সুবিধা দেওয়ার জায়গাটি বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ৯০টির বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে কমিয়ে ১০টির নিচে আনার জন্য সরকার কাজ করছে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানে সরকারি বিনিয়োগের সুফল তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া না গেলেও দীর্ঘমেয়াদে রিটার্ন অনেক বেশি। চলতি বাজেটে শিক্ষায় জিডিপির ২ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে ১ শতাংশ বরাদ্দ এসেছে। ভবিষ্যতে তা ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে এ জন্য সামগ্রিক বাজেটের আকারও বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য দুই খাতেই ৫ শতাংশ করে দিতে চাই, তাহলে মোট বাজেটের আকারও অনেক বড় করতে হবে। সেটিই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।’