পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সংকট নিরসনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) থেকে চারটি বাস ভাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)'র কাছে প্রতি অর্থবছরে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮৬ হাজার ১৭৬ টাকা বরাদ্দ চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি পবিপ্রবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ইউজিসির সচিবের কাছে বাস ভাড়া বাবদ অর্থ বরাদ্দ ও প্রশাসনিক অনুমোদন চাওয়া হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচটি বাস ও চারটি মিনিবাস থাকলেও একটি বাস ও দুটি মিনিবাস ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এগুলো নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিআরটিএ পটুয়াখালী জোনের মূল্যায়নে নির্ধারিত দামের তুলনায় প্রায় ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ কম দর পাওয়ায় বিক্রি সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে সচল চারটি বাস ও দুটি মিনিবাসের মধ্যে দুটি বাস ও একটি মিনিবাস শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পটুয়াখালী-বরিশাল রুটে নিয়মিত চলাচলে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে অবশিষ্ট সীমিত যানবাহন দিয়ে দুই ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যবস্থা চালাতে গিয়ে চরম সংকট তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, পর্যাপ্ত পরিবহন না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায়ই অসন্তোষ ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এতে প্রশাসনকেও নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াতের জন্য অন্তত পাঁচটি বাস ও দুটি মিনিবাসের দাবি জানিয়ে আসছেন।
এদিকে, বিগত কয়েক অর্থবছরে যানবাহন কেনার জন্য বরাদ্দ থাকলেও সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে নতুন গাড়ি কেনা সম্ভব হয়নি। ফলে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে বিকল্প হিসেবে বিআরটিসি থেকে বাস ভাড়া নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ৩১ আগস্ট ২০২২ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, একটি বাস দৈনিক দুই ট্রিপে ৯০ কিলোমিটার চলাচলের জন্য ভাড়া নির্ধারিত ১২ হাজার ৭৭১ টাকা। ২২ কার্যদিবস হিসেবে মাসিক ভাড়া দাঁড়ায় ২ লাখ ৮০ হাজার ৯৬২ টাকা এবং বার্ষিক ভাড়া ৩৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৪৪ টাকা। সে হিসেবে চারটি বাসের জন্য বছরে মোট ব্যয় হবে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮৬ হাজার ১৭৬ টাকা।
পবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ মনে করছে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সংকট অনেকাংশে কমবে এবং পরিবহনসংক্রান্ত অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আসবে।