বাল্ক হেডের ধাক্কায় সেতু ভেঙে খালে, বিপাকে তিন উপজেলাবাসী

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২০ পিএম

ঝালকাঠির রাজাপুরে বালুবাহী জাহাজের ধাক্কায় একটি আয়রণ সেতু ভেঙে তিনদিন ধরে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে রাজাপুর, ভান্ডারিয়া ও কাঠালিয়া উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে খেয়ায় পারাপার হচ্ছেন স্থানীয়রা।

রবিবার (৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের পুটিয়াখালী মীরেরহাট থেকে আরুয়া-সোনারগাঁওয়ের সংযোগ সড়কের জালোবাড়ি খালের ওপরের সেতুতে বালুবাহী একটি জাহাজ ধাক্কা দিলে সেটি ভেঙে পড়ে। পরে জাহাজটি উদ্ধার করে সরিয়ে নেওয়া হলেও সেতুটি সংস্কার না হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সেতুটি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এটি সংস্কারের প্রয়োজন হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের অভিযোগ, বালুবাহী জাহাজ চলাচলে বিভিন্ন এলাকায় সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় একের পর এক এমন ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় শাহ আলম সরদার জানান,সেতুর পশ্চিম পাশে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা সেতুটি পারাপার হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আশা করে। সেতু ভেঙে যাওয়ার কারণে তারা এখন ঝুঁকি নিয়ে নৌকা দিয়ে পারাপার হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিবার খেয়া পারাপারে ৫ টাকা করে দিতে হচ্ছে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক রবিউল ইসলাম জানান, তিন উপজেলার সঙ্গে সংযোগ সেতু এটি।এখান থেকে আমরা যাত্রী নিয়ে প্রতিদিনই বিভিন্ন উপজেলা যাতায়াত করি। সেতু ভেঙে যাওয়ার কারণে আমরা এখন আর যাত্রী পাচ্ছি না। দ্রুত সেতুটি সংস্কার করা না হলে আমাদের আয় বন্ধ হয়ে যাবে।

জাহাজটির মালিক উপজেলার সোনারগাঁও এলাকার মো. বাদশা সিকদারের। কার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সেতুটি সংস্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার পাশাপাশি বালুবাহী জাহাজের চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নৌপথে নজরদারি বাড়াতে হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই ভেঙে যাওয়া সেতুর জায়গায় গার্ডার সেতুর প্রস্তাব করে পিডি স্যারের বরাবর পাঠিয়েছি। দ্রুতই সমস্যার সমাধানে আমরা কাজ করব। এছাড়া জাহাজের মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত