সংসারে অভাব, বাবার অনিয়মিত আয় কোনোটিই থামাতে পারেনি উর্মি আক্তারের স্বপ্নযাত্রা। কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ভোকেশনাল শাখা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি।
উর্মি আক্তার চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মুছাপুর বদিউজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। উর্মির বাবা নাছির পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। গ্রামে সবসময় কাঠমিস্ত্রির কাজ পাওয়া যায় না। ফলে অনিয়মিত আয় দিয়েই সংসারের খরচ চালাতে হয় তাকে। চার সন্তানের পড়াশোনা ও পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে এই পরিবারকে। এর মধ্যেই উর্মির জিপিএ-৫ অর্জন পরিবারে আনন্দের উপলক্ষ্য তৈরি করেছে। মেয়ের সাফল্যে বাবা-মা খুশি হলেও আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন দুশ্চিন্তা কীভাবে মেয়ের কলেজের পড়াশোনার খরচ চালাবেন?
উর্মির বাবা নাছির বলেন, গ্রামে সবসময় কাঠমিস্ত্রির কাজ থাকে না। যে টাকা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানোই দায়। সেখানে মেয়ের কলেজে পড়ার খরচ কীভাবে জোগাবো বুঝতে পারছি না। তবে অর্থনৈতিক সংকট উর্মির স্বপ্নকে ম্লান করতে পারেনি। পড়াশোনা শেষ করে একজন আদর্শ শিক্ষক হতে চান তিনি। তার বিশ্বাস, শিক্ষার মাধ্যমে শুধু নিজের জীবন নয়, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জীবনেও পরিবর্তন আনা সম্ভব।
এখন উর্মির সামনে উচ্চশিক্ষার নতুন অধ্যায়। কিন্তু আর্থিক সংকট তার সেই পথের বড় বাধা। পরিবারের প্রত্যাশা, সমাজের বিত্তবান ও শিক্ষানুরাগীরা এগিয়ে এলে উর্মির পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে এবং তার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নও পূরণ হতে পারে।