মণিরামপুরে হেলে পড়েছে ২০ বছরের পুরোনো সেতু 

হরিহর নদের ওপর নির্মিত একটি সেতু ভেঙে হেলে পড়েছে। পিলারে ফাটল দেখা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে পড়ে বেরিয়ে গেছে রড। পাটাতনেও ফাটল ধরেছে। গত শনিবার যশোরের মনিরামপুর উপজেলার দেবীদাসপুর-পাতন-মাঝিয়ালি সংযোগ সড়কের হরিহর নদের ওপর নির্মিত বিশ বছরের পুরাতন সেতুটি পথচারী ও যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, হরিহর নদী খনন কাজ শুরু হওয়ায় পুরাতন সেতুটিতে খনন কাজের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে। মরা নদীতে নির্মিত হয়েছিল সেতুটি, এখন নদীটি পুনঃ খনন করা হচ্ছে তাই দ্রুততম সময়ে আধুনিক ও যুগোপযোগী সেতু নির্মাণ ও বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থার দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনিরামপুর উপজেলার মধ্যে দিয়ে মৃত হরিহর নদের দেবীদাসপুর-পাতন-মাঝিয়ালি সংযোগ সড়কের উপর বিশ বছর আগে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। গত শনিবার সকালে সেতুটি মাটিতে ডেবে গিয়ে একদিকে কাঁত হয়ে পড়েছে। সেতুটি পুরাতন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পিলারের পলেস্তারা খসে পড়েছে, বেরিয়ে গেছে মরিচাধরা রড। অন্যদিকে সংযোগ সড়কটিও ফেটে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে চলাচল। যে কোনো সময় সেতুটি ভেঙে পড়ার আশংকায় দিন গুনছেন স্থানীয়রা।  

তাই দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা বাঁশ দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে পথচারী ও যানচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা পড়েছেন দুর্ভোগে। কারণ এখন ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক ব্যবহারিক পরীক্ষাসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০২৫ সালের অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা চলমান রয়েছে। 

স্থানীয় কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, এ মরা নদীতে বিরিজটি বানানো হয়েছিল, এখন মরা নদী হরিহর কাটছে তাই বিরিজটিতে পানির চাপ পড়ছে, আর একাধারে তো বৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে, হরিহর নদের পাড়ে একটি দাখিল মাদরাসা, এবং পাতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, ফলে ব্রিজটি ব্যস্ততম হয়ে পড়ে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াকুব আলী দৈনিক দেশরূপান্তরকে বলেন, আমি তো এখানে নতুন এসেছি, ইতিমধ্যে আমি সেতুটি দেখে এসেছি। এবং নতুন করে ব্রিজটি নির্মাণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে পত্র পাঠানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটির চলাচল বন্ধ থাকায় বিকল্প চলাচলের বিষয় তিনি বলেন, আমাদের এখন কোন ফান্ড নেই, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ বিষয় অবহিত করা হয়েছে।