রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর দলের মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে তার পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানান।
এদিকে মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করলেও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান কাউকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেননি। তবে স্থায়ী কমিটির ওই সদস্য জানান, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিজভী আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চেয়ারম্যান এখনও কাউকে দায়িত্ব দেননি। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীতে তিনি কাউকে নিশ্চয়ই দায়িত্ব দেবেন।’
এর আগে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান এবং এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে বেরিয়ে রিজভী বলেন, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই মির্জা ফখরুলের পক্ষে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এর সঙ্গেই দলের নিয়ম ও ঐতিহ্য রক্ষা করে বিএনপির মহাসচিব পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন তিনি।
গত ২৪ জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।