দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তার প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই মির্জা ফখরুলের পক্ষে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এর সঙ্গেই দলের নিয়ম ও ঐতিহ্য রক্ষা করে বিএনপির মহাসচিব পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন তিনি।
গত ২৪ জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এদিন বিকেল চারটার মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়। প্রার্থিতা বাছাই প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন রাখা হয়েছে। একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বহাল থাকলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। সকালে তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হলে তা হবে ১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ ৩৫ বছরের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রথম ঘটনা। পরবর্তী সময়ে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে এসেছিলেন।
জাতীয় সংসদে বর্তমানে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যসংখ্যা সংরক্ষিত নারী আসনসহ ৯০। ফলে সংসদীয় ভোটের সমীকরণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নির্বাচিত হওয়া একরকম নিশ্চিত।
সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে মহাসচিবের দায়িত্ব পান। দলের সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের প্রবাসবাসের প্রতিকূল রাজনৈতিক সময়ে তিনি বিএনপিকে সুসংগঠিত রাখতে নেতৃত্ব দেন।
বিগত সরকারের আমলে বারবার কারাবরণ ও রাজনৈতিক নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েও তিনি পরিচ্ছন্ন ও সর্বজনগ্রাহ্য রাজনীতিক হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে শূন্য হবে তিনটি পদ
শিকড় থেকে শিখরে : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
অলি আহমদের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিল জামায়াত জোট