সাইফুর রহমান শুধু বিএনপির গৌরব নন, জাতির সম্পদ: রুহুল কবির রিজভী

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সাবেক অর্থ, পরিকল্পনা ও বাণিজ্যমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমান তার অবদান এবং অর্জনের কারণে শুধু বিএনপির গৌরব নন, তিনি গোটা জাতির সম্পদ।

তিনি বলেন, সাইফুর রহমান এ জাতির সম্পদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের গৌরব। নানা কারণ ও অবদানের জন্যে তিনি জাতির সম্পদ।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মরহুম এম সাইফুর রহমানের ১৭তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সাইফুর রহমান যখন ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স (ভ্যাট) চালু করেন, তখন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাপক সমালোচনা করা হয়েছিল। ১৯৯১ সালে এটি চালুর সময় সংসদে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় গিয়ে আওয়ামী লীগও ভ্যাট ব্যবস্থা বন্ধ বা বাতিল করতে পারেনি।

তিনি বলেন, ‘এটা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটা প্রাণ সঞ্চার করেছিল। এটা সাইফুর রহমানের অবদান।’

সাইফুর রহমানের ব্যবস্থাপনা দক্ষতার প্রশংসা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিরোধী দলেও থাকা অবস্থায় বিএনপির রাজনৈতিক বিরোধীরা তার ব্যক্তি হিসেবে উচ্চতা, ম্যানেজমেন্ট ক্যাপাসিটি এবং অর্থনীতি ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিয়ে সেভাবে সমালোচনা করতে পারেনি। কারণ দেশের জনগণের মধ্যে তার দক্ষতা ও যোগ্যতা সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল।

তিনি বলেন, সাইফুর রহমান এমন একজন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপক ছিলেন, যিনি টাকা পাচার, ব্যাংক লুট ও ব্যাংকের টাকা নিয়ে সরকারের ঘাটতি বাজেট পূরণের মতো ঘটনা ঘটতে দেননি। তার সময়ে ব্যাংক ছিল ব্যাংকের জায়গায় এবং বাজেট নিজস্ব ট্যাক্স কালেকশনের মাধ্যমে প্রণয়ন করা হতো বলে উল্লেখ করেন রিজভী।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘পরবর্তী ১৭ বছর ছিল লুটপাটের অর্থনীতি, লুটপাটের বাজেট। গোটা দেশকে অর্থনৈতিকভাবে ফাঁকা এবং খোকলা করে দেওয়া হয়েছে। লুটপাট এবং টাকা পাচার যেন আমাদের অর্থনীতির একটা সংস্কৃতিতে পরিণত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, সাইফুর রহমানের লক্ষ্য ছিল ব্যক্তিকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং নিজের পায়ে দাঁড় করানো। কীভাবে একজন ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করা যায়, কীভাবে তাঁকে অর্থনৈতিকভাবে নিজের পায়ে দাঁড় করানো যায়—সাইফুর রহমান তা জানতেন।

রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, সাইফুর রহমান যখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন এবং বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, তখন শেয়ারবাজার লুট হয়নি। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাঁর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সময় শেয়ারবাজারে অনিয়ম ঠেকাতে তিনি যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সংস্কারের মাধ্যমে একটি পশ্চাৎপদ ও দরিদ্র দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে সাইফুর রহমান তার মেধা, দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনার যোগ্যতা কাজে লাগিয়েছিলেন। এ কারণে আন্তর্জাতিকভাবেও তিনি সম্মানিত হয়েছেন।

রুহুল কবির রিজভী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ডের ঘোষণা, খাল কাটার কর্মসূচি এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষামূলক উদ্যোগের মধ্যে জনকল্যাণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আবারও দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দিকে নিয়ে যাবে এবং দেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের দারিদ্র্য সম্পূর্ণভাবে বিমোচন হয়ে দেশ একটি সমৃদ্ধশালী জাতিতে পরিণত হবে—এটাই দেশের মানুষের প্রত্যাশা।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ জি.কে গউছ। ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এম নাসের রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত