কুমিল্লায় গাড়ির দীর্ঘ সারি, বন্ধ আঞ্চলিক গণপরিবহন

কুমিল্লা ও ফেনী অঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী শত শত পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান, ট্রাক ও লরির দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে গ্যাস না পেয়ে এ রুটে আঞ্চলিক গণপরিবহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও রোগীরা।

সরেজমিনে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম থেকে পদুয়ার বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থিত ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি কাভার্ডভ্যান, ট্রাক ও গণপরিবহন। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাসের দেখা পাননি।

গাজীপুর থেকে গার্মেন্টস পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসা কাভার্ডভ্যানচালক জয়নাল আবেদীন আক্ষেপ করে বলেন, ‘বুধবার রাত দুইটা থেকে পাম্পে দাঁড়িয়ে আছি, দুপুর গড়িয়ে গেলেও গ্যাস পাইনি। সময়মতো বন্দরে পণ্য পৌঁছাতে না পারলে শিপমেন্ট বাতিল হয়ে যাবে।’

একই দুর্ভোগের কথা জানান চট্টগ্রাম ইপিজেড থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে আসা লরিচালক আবদুল খালেক। তিনি জানান, হঠাৎ গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি সদর দক্ষিণের একটি ফিলিং স্টেশনে ঢোকেন। কিন্তু কতক্ষণে গ্যাস পাবেন বা আদৌ নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু কোনো আগাম তথ্য ছাড়াই বুধবার দুপুর থেকে হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় বা চাপের মাত্রা একেবারে কমে যায়।

গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায়। ফেনী-কুমিল্লা সড়কে চলাচলকারী আঞ্চলিক পরিবহনের বড় একটি অংশ বন্ধ রয়েছে। চৌদ্দগ্রাম বাজারে বাসের জন্য অপেক্ষারত ইকবাল হোসেন নামের এক যাত্রী বলেন, ‘আমার স্বজন কুমিল্লা হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি। কিন্তু গণপরিবহন না থাকায় যেতে পারছি না।’

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের পরিবহন ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই সংকটে চালক ও মালিক—উভয়েই বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। চৌদ্দগ্রাম ট্রান্সপোর্টের মালিক ওবায়েদ পাটোয়ারী জানান, ২৪ ঘণ্টার পথ এখন পার হতে তিন দিন লেগে যাচ্ছে। ফলে পণ্য পরিবহন খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও বিপাকে পড়ছে।

এদিকে ফেনী-কুমিল্লা রুটের যমুনা মালিক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, ‘গ্যাস সংকটে আমাদের সিংহভাগ গাড়ি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। রোগী ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে। অন্তত গণপরিবহন চালু রাখার স্বার্থে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’