ইতিহাস! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস রচনা করল বাংলাদেশ দল। ২৩ বছর পর সে দেশে টেস্ট খেলতে গিয়ে জয় পেয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ডারউইনে ৯ উইকেটে হারিয়েছে অজিদের। এতে দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা।
দারুণ বোলিংয়ে হাসান মাহমুদ ম্যাচসেরা নির্বাচিত হলেও অন্যতম নায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও। প্রথম ইনিংসে নিচের দিকে ব্যাটারদের সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে শক্ত অবস্থানে নিতে যান তিনি। নিজেও ব্যাট হাতে ফিফটি করেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে একাই ৫ উইকেট নেন। বিশেষ করে আজ চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে খেলায় ফেরান তিনি।
ম্যাচ শেষে মিরাজ বলেন, ‘এই জয়ে দেশের সবাই খুশি এবং এটি অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত, সবাই খুব উপভোগ করছে। অনেক দর্শক আসছে, বাংলাদেশি। আপনাদের আসার জন্য এবং আমাদের সমর্থন করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।’
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ও এই সিরিজের ধারাভাষ্যকার অ্যাডাম গিলক্রিস্টের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশি অলরাউন্ডার বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য একটি চমৎকার ও দারুণ মুহূর্ত। দীর্ঘ সময় পর আমরা এখানে এসেছি এবং এটি দল হিসেবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছি। যেভাবে আমরা খেলেছি এবং আমাদের নিবেদনসহ সবকিছুই নিখুঁত ছিল।’
অথচ এই সফরে যাওয়ার আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা একমাত্র টেস্ট মাত্র আড়াই দিনে হারে বাংলাদেশ দল। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৪ রানে অলআউট হয়ে সমালোচিত হতে হয় সফরকারীদের।
তবে ঘুরে দাঁড়ানোর বিশ্বাস ছিল বলে দাবি করেন মিরাজ, ‘আমাদের বিশ্বাস আছে এবং প্রস্তুতি ম্যাচে হারের পরও আমাদের এই রকম ভাবতে হয়েছে যে, এটা আমাদের একটি দুর্দান্ত সুযোগ। দীর্ঘ সময় পর আমরা এখানে এসেছি। তারা খুব ভালো এবং তারা বিশ্বমানের দল, তাদের অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল, যদি আমরা তাদের হারাতে পারি, তবে তা আমাদের ক্রিকেটের জন্য দারুণ হবে। সেই বার্তা আমরা দিতে পেরেছি।’
সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমি মনে করি আমাদের একটি দল হিসেবে বিশ্বাস রাখতে হবে এবং আমরা কেবল এই পরিস্থিতিতে কীভাবে পারফর্ম করতে পারি, তা নিয়ে আরও ভাবতে হবে।’