বিশ্বজুড়ে এক বছরে ৩৫০ ত্রাণকর্মী নিহত: জাতিসংঘ

২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড ৩৫০ জন ত্রাণকর্মী বা মানবিক সহায়তা কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয়। বিশ্ব মানবিক দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বছর ত্রাণকর্মীদের ওপর সহিংসতা এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক সংস্থা (ওসিএইচএ) এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিউম্যানিটেরিয়ান আউটকামসের তথ্য অনুযায়ী, টানা তৃতীয়বারের মতো ত্রাণকর্মীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে গাজা। গত বছর সেখানে ১৮৬ জন কর্মী নিহত হয়েছেন। এরপরই রয়েছে আফ্রিকার দেশ সুদান, যেখানে ৭১ জন ত্রাণকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। তবে ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর নিহতের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী ৩৭৭ জন দাতব্যকর্মী নিহত হয়েছিলেন।

বিগত তিন বছরে বিশ্বে এক হাজারের বেশি ত্রাণকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে জানিয়ে জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল (মানবিক সহায়তা) টম ফ্লেচার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, শুধু নিন্দা জানিয়ে কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিক ও ত্রাণকর্মীদের সুরক্ষায় রাষ্ট্রগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। যারা এসব আইন লঙ্ঘন করবে, তাদের অবশ্যই কঠোর শাস্তির আওতায় আনার তাগিদ দেন তিনি।

এদিকে ওসিএইচএ জানিয়েছে, চলতি ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আরও ৮২ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৯৭ জন এবং অপহরণের শিকার হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন। সংস্থাটি সংঘাতকবলিত এলাকাগুলোতে সশস্ত্র ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের মতে, এসব ড্রোন প্রাণঘাতী ক্ষমতার বিস্তার ঘটাচ্ছে এবং জনবহুল এলাকায় ধ্বংসাত্মক বিস্ফোরকের ব্যবহার বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ড্রোনের ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে সুদানে নিহত বেসামরিক নাগরিকদের ৮০ শতাংশই ড্রোন হামলার শিকার হয়েছেন। এসব হামলা মূলত বাজার ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে চালানো হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও ড্রোন হামলার ধ্বংসাত্মক প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।