আয়োজকদের কথা

স্থাপত্য ডিজাইনে পরিবর্তন আনবে এই ফেয়ার

স্থপতি মেহেদী ইফতেখার

উপদেষ্টা, চট্টগ্রাম বিল্ড এক্সপো-২০২৬

বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম চ্যাপ্টার

নির্মাণ শিল্পে মেটেরিয়াল, প্রাইস ও কোয়ালিটি এই তিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন প্রশ্ন হলো, তিনটির যাচাই আমরা করতে পারছি কিনা। উৎপাদনকারী ও বিপণনকারীর সঙ্গে ব্যবহারকারীদের সংযোগ স্থাপন না হলে যতই আধুনিক পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা হোক না কেন, তা বাজারে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। চট্টগ্রাম শহরে প্রায় সাড়ে ৪০০ আর্কিটেক্ট প্র্যাকটিস করে থাকে। এই ৪০০ আর্কিটেক্ট যখন এক ছাদের নিচে দেশের সেরা কোম্পানিগুলোর লেটেস্ট মডেলের পণ্য দেখবে তখন তারা ডিজাইন করতে গিয়ে এগুলো নেওয়ার জন্য সাজেশন করবে। এতে এই কোম্পানিগুলো যেমন বছর জুড়ে পণ্য বিক্রির অর্ডার পাবে তেমনিভাবে আর্কিটেক্ট তথা ব্যবহারকারীরাও সহজে পণ্য পাবে। আবার বাজেট অনুযায়ী কোন ধরনের পণ্যের দাম কত তাও যাচাই করা সহজ হবে, এমন ফেয়ারের মাধ্যমে। আমরা সেই চিন্তাধারা থেকে চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো এই আয়োজন করতে যাচ্ছি।

এই আয়োজনের মাধ্যমে চট্টগ্রামের আর্কিটেক্ট তথা ব্যবহারকারীরা লাভবান হবে। শুধু কি আর্কিটেক্ট? এই আর্কিটেক্টরা নগরে বিভিন্ন ভবনের ডিজাইন করবে। সেসব ডিজাইনে নতুন নতুন অনেক প্রযুক্তির সংযোগ ঘটবে এবং নগরের স্থাপত্য ডিজাইনেও পরিবর্তন আনবে এই ফেয়ার। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের তরুণ আর্কিটেক্টরা যাতে প্র্যাকটিসে আরও উন্নত জ্ঞান অর্জন করতে পারে সে জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদান রাখা সেরা আর্কিটেক্ট ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। অর্থাৎ এটি শুধু পণ্য বিপণনের জায়গাই নয়, নলেজ শেয়ারিংয়েরও জায়গা।

প্রতি বছর এ ধরনের ফেস্ট আয়োজন করতে চাই

স্থপতি মিজানুল ইসলাম

আহ্বায়ক, চট্টগ্রাম বিল্ড এক্সপো ২০২৬

বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম চ্যাপ্টার

বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। এই নগরে আগামীর বন্দর বলে খ্যাত বে টার্মিনাল গড়ে উঠছে। মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে হতে যাচ্ছে গভীর সমুদ্রবন্দর। মিরসরাইয়ে দেশের সর্ববৃহৎ ইকোনমিক জোন। কক্সবাজারের টেকনাফে সাবরাং পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠছে। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে যত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে এগুলোর প্রধান হাব হবে এই চট্টগ্রাম। তাই চট্টগ্রামকে আধুনিক স্থাপত্য নির্মাণ থেকে শুরু করে নির্মাণ উপকরণ দিয়ে এগিয়ে থাকতে হবে। এই এগিয়ে থাকার জন্য প্রয়োজন বর্তমান বিশে^ আধুনিক কী কী নির্মাণ উপকরণ আসছে তা জানা। আবার এসব পণ্য কারা উৎপাদন করছে, কোন দেশে উৎপাদিত হচ্ছে, দেশে এসব পণ্য কারা সরবরাহ করছে জানতে হবে। চট্টগ্রামের আর্কিটেক্টরা যখন এগুলো জানতে পারবে তখন তাদের নকশায় এগুলোর সহজ প্রাপ্যতা বিবেচনা করে ভবনের ডিজাইন করা হবে। এতে ভবন মালিক ও ক্রেতা যেমন লাভবান হবে তেমনি আমাদের নির্মাণ কাঠামোতেও নতুনত্ব আসবে। আমাদের লক্ষ্য হলো এখন থেকে প্রতি বছর এ ধরনের ফেয়ারের আয়োজন করা।