চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো তিন দিনের বিল্ড এক্সপো আজ শুরু

স্থাপত্যে সৌন্দর্য নিরাপত্তা ও সাশ্রয়ের খোঁজে ...

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪০ এএম

সাদাত আলী। পেশায় ব্যাংকার। চট্টগ্রাম নগরীর জুবিলী রোডে এসেছেন স্যানিটারি আইটেম কিনতে। কিন্তু অসংখ্য দোকান ও পণ্যের ভিড়ে কোনটার গুণগত মান ভালো আর কোনটা ভালো না, তা নির্ধারণ করতে পারছেন না। সব দোকানেই বলা হচ্ছে তাদের পণ্যটি সেরা। শুধু স্যানিটারি আইটেম নয়, দরজার লক থেকে শুরু করে হ্যান্ডল ও সিটকিনি কিংবা কব্জা কিনতেও দোকানের সেলসম্যানের ওপর নির্ভরশীল সাদাত আলী। এমন সাদাত আলী কিন্তু একজনই নয়, প্রতিদিন হাজারো সাদাত আলী দোকানের সেলসম্যান কিংবা মিস্ত্রি যা বলে সেই পণ্যই কিনে নিয়ে যান। কোনটা ভালো আর কোনটার গুণগত পার্থক্য রয়েছে তা বোঝার ক্ষমতা নেই তাদের। আর তাদের জন্যই এক ছাদের নিচে নগরীতে শুরু হতে যাচ্ছে বিল্ড এক্সপো।

একসময় রাজধানী ঢাকা শহরে আয়োজন করা হতো এমন বিল্ড এক্সপোর। এবারই প্রথমবারের মতো তিন দিনব্যাপী বিল্ড এক্সপোর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের পক্ষ থেকে। বিল্ড এক্সপো কী, এগুলো নিয়ে ফেয়ারের আয়োজন কেন, এই ফেয়ারে কারা আসবেন কিংবা এতে কাদের পণ্যের বিকিকিনি হবে, এমন অনেক প্রশ্নের জন্ম নেয়। আর এগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, তিন দিনের এক্সপোর মাঝে মাঝে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্বও উপস্থিত থাকবেন। এসব বিশেষজ্ঞ কিন্তু পণ্য বিকিকিনি করবেন না, তারা তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপনের মাধ্যমে। এতে জুনিয়র আর্কিটেক্টরা লাভবান হবে।

কেন এই বিল্ড এক্সপো?

বাংলাদেশসহ সারা বিশে^ই উৎপাদিত পণ্যের ফেয়ার হয়। কিন্তু দেশের দ্বিতীয় প্রধান নগরী তথা বাণিজ্যিক নগরী খ্যাত চট্টগ্রামে কখনো বিল্ড এক্সপো হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এক্সপো কমিটির উপদেষ্টা ও পিটুপির পরিচালক স্থপতি মেহেদী ইফতেখার দেশ রূপান্তরকে বলেন, উৎপাদনকারী ও ভেন্ডরদের সঙ্গে চট্টগ্রামে কাজ করা প্রায় ৪৫০ আর্কিটেক্টের সমন্বয় ঘটানো এবং চট্টগ্রামের ব্যবহারকারীদের সঙ্গে নতুন প্রযুক্তির পরিচয় ঘটাতেই এই বিল্ড এক্সপোর আয়োজন। এর মাধ্যমে আমরা বর্তমানে বাজারে আসা নতুন নতুন আইটেমগুলো কোথায় পাওয়া যায় এবং কারা সরবরাহ করে তাও আমরা জানতে পারব।

কিন্তু এই ফেয়ারে তো সিলেকটিভ প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ করছে। এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা চেয়েছি নির্মাণ উপকরণের সবগুলো সেক্টরের মধ্যে দেশে সেরা যে প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে। উদাহরণ হিসেবে রডের ক্ষেত্রে বিএসআরএম প্রশ্নাতীত তেমনিভাবে পেইন্টের ক্ষেত্রে বার্জার। আমরা এভাবে লিফট, স্যানেটারি, ক্যাবলসহ প্রায় সব ক্ষেত্রে বর্তমানে বাজারের সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে এই বিল্ড এক্সপোর আয়োজন করেছি।

নলেজ শেয়ারিংয়ের জায়গা হবে এই বিল্ড এক্সপো

স্থপতি আশিক ইমরান ব্যতিক্রমী নকশার জন্য এবং বিভিন্ন নাগরিক ও পরিকল্পিত নগরায়ন ইস্যুতে সোচ্চার থাকেন সবসময়। এই বিল্ড এক্সপো সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই এক্সপোতে অনেকগুলো সেমিনার রয়েছে। এসব সেমিনারে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শীর্ষ আর্কিটেক্ট ও প্রকৌশলীরা তাদের নলেজ শেয়ার করবেন। এতে এই শহরের নবীন আর্কিটেক্ট যারা কাজ করছেন তাদের কাজের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে বিশে^ কোন কোন প্রযুক্তির ব্যবহার চলছে এবং আমরা সেসব প্রযুক্তি এখানে ব্যবহার করতে পারব কিনা তাও আলোচনা হবে। অর্থাৎ এই ফেয়ার শুধু পণ্য বেচাকেনার জন্য নয় নলেজও শেয়ারিং হবে।

নতুন প্রযুক্তির পণ্য সম্পর্কে জানা যাবে

বর্তমানে আমাদের দেশীয় অনেক কোম্পানি রয়েছে, যারা খুব ভালো পণ্য উৎপাদন করে। বিশেষ করে টাইলস ও স্যানেটারি প্রোডাক্টে দেশীয় কোম্পানিগুলোর উৎকর্ষ প্রশ্নাতীত। এ বিষয়ে আকিজের সিস্টার কনসার্ন স্টেলা কোম্পানির ব্র্যান্ড ম্যানেজার আবদুল্লাহ আল আরমান বলেন, বর্তমানে টয়লেটের ফ্ল্যাশ বাটনে আমরা কম পানি খরচের প্রযুক্তি নিয়ে এসেছি। এ ছাড়া অন্যান্য আইটেমেও পানির অপচয় রোধ করার প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। অনেক সময় গরম পানি আসতে একটু সময় নেয়। কিন্তু এখন সঙ্গে সঙ্গে গরম পানি আসে।

শুধু স্যানিটারি আইটেম নয়, ক্যাবলের ক্ষেত্রেও নতুনত্ব এসেছে। লিফটের ক্ষেত্রে অনেক নতুন নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, একটি ভবনের ইলেকট্রো ম্যাকানিক্যাল ডিজাইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভূমিকম্পের সময় ভবনের পাওয়ার সাপ্লাই কি হবে, সেন্সর ঠিক থাকবে কিনা, লিফটে কোন ধরনের সেন্সর যুক্ত থাকবে এমন অনেক প্রযুক্তিগত উন্নতি হয়েছে। নতুন নির্মাণ হতে যাওয়া ভবনগুলোতে এই প্রযুুক্তিগুলো সম্পর্কে জানতে হবে। এ ধরনের এক্সপো হলে গ্রাহকরা যেমন নলেজ অর্জন করতে পারে, তেমনিভাবে ভবনের ডিজাইন যারা করে তারাও প্রযুক্তিগুলো সম্পর্কে জানতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, ফায়ার হ্যাজার্ডও কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভবনগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ঝুঁকি কিংবা বিকল্প বের হওয়ার পথগুলোতে কী কী নির্দেশক ব্যবহার করা হয়, তা জানা খুব প্রয়োজন। বর্তমানে অনেক উন্নত ভবনে এগুলো যুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে একটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের ঝুঁকির সঙ্গে একটি হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকের ঝুঁকি মেলানো যাবে না। তাই ঝুঁকি বিবেচনায় প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

একটি ভবনের ইলেকট্রো ম্যাকানিক্যাল ডিজাইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভূমিকম্পের সময় ভবনের পাওয়ার সাপ্লাই কী হবে, সেন্সর ঠিক   থাকবে কিনা, লিফটে কোন ধরনের সেন্সর যুক্ত থাকবে, এমন অনেক প্রযুক্তিগত উন্নতি হয়েছে বিশে^। এ ধরনের এক্সপো হলে গ্রাহকরা যেমন নলেজ অর্জন করতে পারে, তেমনিভাবে ভবনের ডিজাইন যারা করে তারাও প্রযুক্তিগুলো সম্পর্কে জানতে পারবে।

প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম

সাবেক উপাচার্য, চুয়েট

বিশে^ কোন কোন প্রযুক্তির ব্যবহার চলছে এবং আমরা সেসব প্রযুক্তি এখানে ব্যবহার করতে পারব কিনা, তা জানতে পারব। একই সঙ্গে এক্সপোতে শুধু পণ্য বেচাকেনা নয়, নলেজও শেয়ারিং হবে।

আশিক ইমরান

প্রধান স্থপতি, ফিয়ালকা

এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের প্রোডাক্ট সবার কাছে উপস্থাপন করতে সহজ হয়।

এ ছাড়া আর্কিটেক্টসহ এই খাতের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পাওয়া সুপারিশও পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে সহায়ক হবে।

সাজির আহমেদ

পরিচালক, এলিট পেইন্ট অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত