প্রাগৈতিহাসিক যুগে এমন প্রাণী সমুদ্রে রাজত্ব করত, যাদের আকৃতি ও শক্তি রূপকথার দানবকে হার মানায়। ‘মেগালোডন’ তেমনি বিশাল হাঙর। প্রায় ৩ কোটি ৬০ থেকে ৩৬ লাখ বছর আগে তারা সমুদ্রে বাস করত। বর্তমানে এরা বিলুপ্ত। এরা সাধারণ হাঙরের চেয়ে বড়। প্রাপ্তবয়স্ক মেগালোডন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ফুট লম্বা। ওজন ছিল ৫০ থেকে ১০০ মেট্রিক টন। এদের চোয়ালের কামড় অন্য যেকোনো পরিচিত শিকারি প্রাণীর চেয়ে শক্তিশালী ছিল। মেগালোডনের দাঁত ত্রিভুজাকার, ধারালো এবং ৭ ইঞ্চি পর্যন্ত বড় ছিলো। দাঁতগুলো শক্তিশালী চোয়ালের মাধ্যমে তিমি, বড় মাছ এবং অন্য হাঙর শিকার করতে সক্ষম ছিল। গবেষণায় উঠে এসেছে বিস্ময়কর তথ্য। বিজ্ঞানীদের দাবি, বিলুপ্ত হাঙর ‘ওটোডাস মেগালোডন’ প্রায় দুটি বাসের সমান। গবেষণায় জানা গেছে, মেগালোডনের খাদ্যতালিকা ধারণার চেয়েও অনেক বিস্তৃত ছিল। বিশাল চেহারার হাঙরেরা অন্য হাঙরদের খেয়ে ফেলত। গবেষক দলের প্রধান,শিকাগোর ডিপল ইউনিভার্সিটির জীবাশ্মবিদ কেনশু শিমাদা বলেছেন, ‘এদের পাকস্থলীর মধ্যে বাস্কিং হাঙরদের দেহাংশ ছিল।’ গবেষকদের মতে, এত দিন যা মনে করা হতো, মেগালোডনদের খাদ্যতালিকা ছিল তার চেয়েও অনেকটা বিস্তৃত। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, বিশালকায় হাঙর মেগালোডনের জীবনকাল ছিল প্রায় ৮৮ থেকে ১০০ বছর। মেগালোডনের বিলুপ্তির কারণ হিসেবে সমুদ্রের তাপমাত্রা পরিবর্তন, খাদ্যের অভাব এবং পরিবেশগত পরিবর্তনকে ধরা হয়। সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা কমে যাওয়া এবং শিকার কমায় প্রজাতিটি সমুদ্রের বুক থেকে হারিয়ে গেছে।