কৃতজ্ঞতায় সুখ বাড়ে

কৃতজ্ঞতা মানুষের মনকে ইতিবাচক করে। জীবনের পাওয়া, প্রাপ্তি ও ছোট ছোট নেয়ামতের প্রতি সচেতন করে তোলে। একই সঙ্গে কঠিন সময়কেও শিক্ষা হিসেবে দেখার মানসিকতা তৈরি করে। মনোবিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার দৃষ্টিতে কৃতজ্ঞতার এই অভ্যাস মানুষের সুখ, মানসিক প্রশান্তি ও আত্মিক উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কৃতজ্ঞতার দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করে। মানুষ যখন নিজের জীবনের আশীর্বাদগুলো উপলব্ধি করতে শেখে, তখন তার সুখের অনুভূতিও বাড়তে থাকে।

কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি লোকমানকে প্রজ্ঞা দিয়েছিলাম (এবং বলেছিলাম), আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হও। যে কৃতজ্ঞ হয়, সে তো নিজের কল্যাণের জন্যই কৃতজ্ঞ হয়। আর যে অকৃতজ্ঞ হয়, সে জেনে রাখুক, নিশ্চয়ই আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, প্রশংসিত।’ (সুরা লোকমান ১২)

কৃতজ্ঞতা শুধু কারও উপকারের জন্য ধন্যবাদ জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি দৃষ্টিভঙ্গি। মানুষ যখন নিজের জীবনের ছোট ছোট বিষয়গুলোর মূল্য উপলব্ধি করে, তখন তার মধ্যে ইতিবাচকতা তৈরি হয়। আলহামদুলিল্লাহ বলা সেই কৃতজ্ঞতারই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ।

কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আশাবাদও গভীরভাবে যুক্ত। জীবনে কী নেই, সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে কী আছে, তা উপলব্ধি করার অভ্যাস মানুষকে হতাশার পরিবর্তে আশাবাদী করে তোলে। ফলে মানসিক অবস্থার ওপরও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। যায়েদ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ওমরকে সহযোগিতা করল। ওমর তাকে ধন্যবাদ জানাল এবং ভালো ফলের জন্য আলহামদুলিল্লাহ বলল। পরে সে বন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে একটি কলম উপহার দিল।

এর মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা শুধু একটি আচরণে সীমাবদ্ধ থাকল না। ওমরের মনে যায়েদের প্রতি আস্থা ও বন্ধুত্বের অনুভূতি বাড়ল। সে বন্ধুর জন্য দোয়া করল। অন্যদিকে যায়েদও বন্ধুর কৃতজ্ঞতায় আনন্দিত হলো। এভাবে কৃতজ্ঞতা থেকে পারস্পরিক আস্থা, ভালোবাসা ও গভীর সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।

কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যখন তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করলেন, তোমরা কৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমি তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি কঠোর।’ (সুরা ইবরাহিম ৭) জীবনের প্রতিটি ঘটনার তাৎক্ষণিক উদ্দেশ্য মানুষ সবসময় বুঝতে পারে না। সুখের সময় কৃতজ্ঞ হওয়া তুলনামূলক সহজ। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতিতেও আলহামদুলিল্লাহ বলতে পারা মানুষের ইতিবাচক ও আত্মিক শক্তির পরিচয় বহন করে।

কৃতজ্ঞতার অভ্যাস গড়ে তুলতে প্রতিদিনের জীবনে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে নিজের পাওয়া নেয়ামতগুলো স্মরণ করা যেতে পারে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের যেকোনো একটি নামাজের পর কিছু সময় নিয়ে জীবনের আশীর্বাদগুলো ভাবা এবং মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা মুমিনের কাজ।

প্রতিবার আলহামদুলিল্লাহ বলার সময় একটি করে নেয়ামত মনে করার অভ্যাসও গড়ে তোলা যায়। এতে কৃতজ্ঞতা কেবল মুখের উচ্চারণে সীমাবদ্ধ না থেকে হৃদয়ের অনুভূতিতে পরিণত হবে।

লেখক : ইসলামি গবেষক