যেভাবে সাজাবেন আপনার সিভি

চাকরি, প্রকল্প বা বৃত্তির আবেদনের প্রথম ধাপ হলো সিভি বা জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়া। গুরুত্বপূর্ণ এই পত্রের মাধ্যমেই প্রার্থীর সঙ্গে কর্র্তৃপক্ষের প্রথম যোগাযোগ ঘটে। তাই প্রথম দর্শনেই নিজের প্রতি নিয়োগদাতার ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে চাই একটি তথ্যনির্ভর, আকর্ষণীয়, স্মার্ট সিভি। আকর্ষণীয়ভাবে সিভিটি সাজানোর কৌশল জানাচ্ছেন শাহ জামান

সিভি কী

সিভি বা কারিকুলাম ভিটা (Curriculum Vitae) হলো ব্যক্তির কাজ, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার সংক্ষিপ্ত বিবরণ। চাকরি, প্রকল্প, উচ্চশিক্ষা, বৃত্তির প্রভৃতি যেকোনো আবেদনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানভেদে সিভির প্রকার ভিন্ন হয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাজের ধরন, প্রত্যাশা, পদ প্রভৃতি অনুযায়ী জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করে থাকে। সেজন্য একই ব্যক্তির সিভি ক্ষেত্রবিশেষে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে, যদিও ব্যক্তিগত তথ্য একই থাকে।

সিভিতে যা থাকে

ব্যক্তিগত তথ্য

এ অংশে ব্যক্তির নাম, ফোন নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা থাকে। কিছু ক্ষেত্রে বর্তমান ও স্থায়ী যোগাযোগের ঠিকানা দিতে হতে পারে।

প্রয়োজনীয় লিংক

বর্তমানে সিভিতে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া লিংক বা আইডি নেম যুক্ত করতে হয়। বিশেষ করে, পেশাজীবীদের সোশ্যাল মিডিয়া লিংকইনের সংযুক্তি অবধারিত অঙ্গ হয়ে উঠেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো খুব সহজেই প্রার্থীর যোগ্যতা, শখ, দক্ষতা এবং চিন্তার গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে আগেই জেনে নিতে পারে এবং সাক্ষাৎকারের জন্য শর্টলিস্ট তৈরি করতে পারে। 

সারাংশ

এ অংশে খুব সংক্ষেপে নিজের পরিচয় দিতে হয়। এটি ইংরেজিতে ‘Personal Statement’ বা ‘bjective’ হিসেবে পরিচিত। ব্যক্তি কোন ধরনের ক্যারিয়ার গড়তে চান ও সে ক্যারিয়ারের সঙ্গে বর্তমান চাকরি কীভাবে সম্পর্কযুক্ত, সে ব্যাপারে এ অংশে সীমিত শব্দের মধ্যে লিখতে হয়।

কাজের অভিজ্ঞতা

সারাংশের পরে সাধারণত কাজের পূর্বাভিজ্ঞতার বিবরণ লেখা হয়ে থাকে। এই অংশে পূর্বে কোন ধরনের কাজ, কতদিন ধরে করেছেন তা উল্লেখ করুন। সাম্প্রতিক কাজের কথা সবার আগে লিখুন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করার সময় সাম্প্রতিক ডিগ্রি বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিবরণ প্রথমে উল্লেখ করুন। শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণে ডিগ্রি উল্লেখ করার সঙ্গে অবশ্যই ফলাফল বা সিজিপিএ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাবর্ষ উল্লেখ করতে হবে।

দক্ষতা ও অর্জন

যে চাকরি বা বিষয়ে আবেদন করছেন, তার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো দক্ষতা বা অর্জন থাকলে সে বিষয়ে উল্লেখ করুন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণ, কর্মশালা বা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে থাকলে সংক্ষেপে উল্লেখ করতে পারেন। পুরস্কার, সম্মাননা বা প্রকাশনার কথাও উল্লেখ করতে পারেন।

রেফারেন্স

আপনার কাজ, দক্ষতা বা যোগ্যতা নিয়ে ভালো ধারণা রয়েছে এমন দু-একজন ব্যক্তির নাম ও যোগাযোগের তথ্য রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করুন। এই ব্যক্তিবর্গ সংশ্লিষ্ট পেশার সঙ্গে জড়িত হলে খুবই ভালো। তবে আগেই তাদের অনুমতি নিয়ে রাখুন। সব চাকরির জন্য রেফারেন্স অংশ থাকার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও রেফারেন্স দিলে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে।

সতর্ক থাকুন

ভুল বানানে সিভি লিখবেন না। অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকুন। জটিল ও দীর্ঘ বাক্য পরিহার করুন। সব আবেদনের জন্য একই সিভি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। সাক্ষাৎকারে সিভিতে উল্লিখিত বিষয়ে প্রশ্ন করা হতে পারে, তাই কোন অংশে

কী লিখেছেন তা স্মরণে রাখুন। সিভির একটি কপি আপনার কাছে রাখুন। সাক্ষাৎকারের পূর্বে একবার চোখ বুলিয়ে নিলে উপকৃত হবেন।