ব্যর্থতা থেকেই বড় হতে শিখেছি

বাংলাদেশ দলের হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর ৬ বছর নিজেকে হারিয়ে খুঁজছিলেন সোবহানা মোস্তারি। সে ধাক্কায় নিজেকে নতুন করে গড়েছেন নারী দলের এই ব্যাটার। এখন দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ তিনি। তার বদলে যাওয়ার নেপথ্য, ধারাবাহিক রান করার কৌশল, টেস্টের জার্সি গায়ে জড়াতে না পারার আক্ষেপসহ একাধিক বিষয় নিয়ে তরিকুল ইসলাম সজলের মুখোমুখি হন তিনি

সামনে এশিয়া কাপ এবং এশিয়ান গেমসের মতো দুটি বড় টুর্নামেন্ট। দলীয় এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্য কী থাকবে?

সোবহানা : আমরা মেয়েদের ক্রিকেটের ইতিহাস নতুন করে লিখতে চাই। ২০১৮ সালের এশিয়া কাপের পর অনেক দিক থেকেই উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে অনেক পরিবর্তন এসেছে। প্রায় আট বছর হয়ে গেছে, কিন্তু সে অর্থে খুব বেশি অর্জন নেই। আমরা চাই, এশিয়া কাপে ভালো কিছু করে আমাদের মেয়েদের ক্রিকেটকে আরও ওপরে নিতে। আগের এশিয়ান গেমসে আমরা ব্রোঞ্জ পেয়েছি। এবার আমরা সোনা না হলেও অন্তত রুপা নিয়ে ফিরতে চাই। এ জন্য আপাতত ব্যক্তিগত লক্ষ্য নেই। দলের প্রয়োজনে যখন যেভাবে পারি সাহায্য করতে চাই।

মেয়েদের দলের মূল সমস্যা তো ব্যাটিং বিভাগে। এবার এত বড় দুটো টুর্নামেন্টের আগে সেটা কতটা পূরণ হয়েছে?

সোবহানা : গত দুই বছরে আমাদের ব্যাটিংয়ে অনেক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে। আমার মনে হয়, আমরা অনেকেই উন্নতি করছি। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচ আমরা ব্যাটিংয়ের কারণেই জিতেছি। প্রতিদিনই উন্নতি হচ্ছে। হয়তো উন্নতির পরিমাণটা অনেক বেশি নয়, কিন্তু এভাবে কাজ করতে থাকলে খুব তাড়াতাড়ি ভালো কিছু হবে বলে মনে করি।

কিন্তু কেউই তো ধারাবাহিক হতে পারছেন না। আপনি কিছুটা ব্যতিক্রম। নিজেকে কীভাবে আলাদা করেছেন?

সোবহানা : অভিজ্ঞতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বোলিংয়ের ক্ষেত্রে ভালো বোলিং-সহায়ক উইকেট দেওয়া হলে বোলাররা উইকেট থেকে অনেক সাহায্য পায়। কিন্তু ব্যাটারদের সবসময় অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করতে হয়। আমি চেষ্টা করি ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে ব্যাট করতে। আমি আমার উইকেটের মূল্য বুঝি।

আপনি প্রায় ৭ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন। অনেকবার দল থেকে বাদ পড়ে আবার ফিরেছেন। ২০২৫ সালের পর আপনার ব্যাটিংয়ে বেশ পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ কোনো জায়গা ধরে কাজ করে সফল হয়েছেন?

সোবহানা : আগে শুরুটা ভালোই করতাম কিন্তু ২০-২৫ কিংবা ১৫-১৬ রানে গিয়ে থেমে যেতাম। এখন দলের জন্য আমার দায়িত্ব অনেক বেড়েছে। আগের দিনের ব্যর্থতাগুলো এখন আমাকে বড় হতে শিখিয়েছে। কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে খেলতে হবে, কোথায় ধরে খেলতে হবে সেটা এখন ধরতে পারি। আগের সেই ব্যর্থতার অভিজ্ঞতাই এখন ভালো ইনিংস খেলতে আমাকে সাহায্য করে।

আগে সাধারণত বোলারদের সহায়ক উইকেটে খেলতেন। এখন ব্যাটারও সুবিধা পান। এর প্রভাব কতটা পড়ছে?

সোবহানা : এর প্রভাব অবশ্যই আছে। আমরা যখন ইংল্যান্ডে খেলতে গিয়েছি, তার আগে স্কটল্যান্ডে প্রায় ১৫ দিন ছিলাম। সেখানেই আমরা বুঝে গিয়েছিলাম ইংল্যান্ডের আবহাওয়া কেমন হবে। ইউরোপের দেশগুলোতে উইকেটও সম্পূর্ণ ভিন্ন। গত এক বছরে আমরা খুব ভালো উইকেটে খেলেছি। এটাকেও ব্যাটিংয়ের উন্নতির একটি কারণ হিসেবে দেখতে পারেন।

সামনে অস্ট্রেলিয়া সফর। অনেকেই প্রত্যাশা করবে, ছেলেদের মতো আপনারাও যেন ভালো করতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশ নারী দল সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছে গত এপ্রিলে। আপনি কতটা চ্যালেঞ্জ দেখছেন?

সোবহানা : আমরা গত সাত মাস ধরে শুধুই টি-টোয়েন্টি খেলছি। এশিয়ান গেমস ও এশিয়া কাপও টি-টোয়েন্টিতেই হবে। তবে এটাও মাথায় রাখছি। যদিও অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে আমরা প্রথমবারের মতো সিরিজ খেলব, তবে বিশ্বকাপ সেখানে খেলেছি, তাই অনেকরই কিছু অভিজ্ঞতা আছে। প্রস্তুতির ক্ষেত্রে মানসিকভাবে ওয়ানডে সিরিজ কীভাবে খেলতে হবে, সেটার জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখছি।

২০২১ সালে বাংলাদেশ নারী দল টেস্ট মর্যাদা পায়। ৬ বছর পরেও এখনো মাঠে নামা হয়নি। নিশ্চয় আপনারও দেশের জার্সিতে টেস্ট খেলার স্বপ্ন আছে?

সোবহানা : এটা সব সময়ের স্বপ্ন। আমরা যখন সর্বশেষ তিন দিনের ম্যাচগুলো খেলেছি, তখন ব্যাটারদের উন্নতি আমরা নিজেরাই অনেক বেশি লক্ষ করেছি। এখন আমাদের নতুন চেয়ারম্যান (নারী বিভাগে) এসেছেন, ক্রিকেট বোর্ডেও অনেক কিছু নতুনভাবে শুরু হচ্ছে। তারাও বিষয়টি সম্পর্কে জানেন। আশা করি দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নেবেন।

নারী ক্রিকেট নিয়ে বাইরে নানান ধরনের আলোচনা ও বিতর্ক শোনা যায়। দলের ভেতরে এর প্রভাব কতটা পড়ে?

সোবহানা : একজন খেলোয়াড় হিসেবে বাইরের এসব আলোচনা আমাদের ভেতরে কোনো প্রভাব ফেলে না। আমরা যখন মাঠে খেলি, তখন আমাদের মূল লক্ষ্য থাকে দেশের জন্য ভালো কিছু করা এবং নিজেদের খেলা উপভোগ করা। বাইরে কে কী বলল বা কী লিখল, সেটা নিয়ে বেশি চিন্তা করলে আমাদের পারফরম্যান্সেই প্রভাব পড়বে। তাই আমরা দলের ভেতরে নিজেদের খেলায় মনোযোগ রাখি এবং ঐক্য ধরে রাখার চেষ্টা করি।