চীন সীমান্ত থেকে উৎপন্ন লহেন্দে নদীতে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় নেপালে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা, রসুওয়াগড়ি সীমান্ত থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে চীনের অভ্যন্তরে বিশাল এক হিমধ্বস (বরফ ও পাথরের স্তূপ) ধসে পড়ে লহেন্দে নদী আটকে যাওয়ার কারণেই এই আকস্মিক দুর্যোগের সৃষ্টি হয়। খবর অন্নপূর্ণ পোস্টের।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, প্ল্যানেট ল্যাবের স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে নদী আটকে যাওয়ার এই চিত্র দেখা গেছে। তবে নদী আটকে যেখানে হ্রদের সৃষ্টি হয়েছিল, সেই জায়গাটি এখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়নি। ফলে ভোটকোশি ও ত্রিশূলী নদীর অববাহিকার বাসিন্দাদের জন্য দ্বিতীয় দফায় বন্যায় ভেসে যাওয়ার ঝুঁকি এখনো বজায় রয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল পৌনে ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই আকস্মিক প্লাবনে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে পৌঁছেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪০০ মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক, নিরাপত্তাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ৩৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৪৪ জন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন।
এছাড়া এই বন্যায় রসুওয়াগড়ি শুল্ক কার্যালয়, অভিবাসন দপ্তর, হাইড্রোবিদ্যুৎ কেন্দ্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সেতু ও সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও রেডক্রসের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সহায়তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এলাকাটিতে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত না হলেও বিগত ১০ দিনে তাপমাত্রা বেড়ে ১৯ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। বরফ গলে যাওয়া, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক ভূকম্পন বা জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবেই এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন, এটি কোনো হিমবাহের হ্রদ বিস্ফোরণ নয়, বরং বরফ ও পাহাড়ি শিলার ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছিল।
গত বছরও একই এলাকায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সে সময় দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে নেপাল ও চীনের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের চুক্তি হলেও, চীনা কর্তৃপক্ষও এই আকস্মিক ঘটনার আগাম কোনো তথ্য পাননি বলে জানানো হয়েছে। চীনেও এ ঘটনায় বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
বর্তমানে সীমান্ত সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় মেঘলা আবহাওয়ার কারণে স্যাটেলাইট ছবি স্পষ্ট আসছে না। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, নদীর প্রবাহ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় এবং পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় যে কোনো মুহূর্তে দ্বিতীয় দফায় আবার বন্যা চলে আসতে পারে।