ভারত ও চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে নিজের দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে সরে আসছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র 'বালেন' শাহ। কাঠমান্ডুভিত্তিক বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে একান্ত বৈঠক না করার নীতি ভেঙে তিনি চলতি সপ্তাহে ভারত ও চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করতে যাচ্ছেন।
দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই প্রতিবেশী দেশের প্রতি সমান গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিতে প্রধানমন্ত্রী শাহ একই দিনে ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং মাওমিংয়ের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবেন। যদিও বৈঠকের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি, নেপাল সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
ক্ষমতায় আসার পর গত একশ দিনের বেশি সময় ধরে বালেন শাহ প্রচলিত কূটনৈতিক রীতি থেকে সরে গিয়ে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে পৃথক সাক্ষাৎ করেননি। এর পরিবর্তে তিনি দুই দফায় কাঠমান্ডুভিত্তিক সব রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে যৌথ বৈঠক করেন।
এর আগে নেপালের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীদের দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা সরকারি বাসভবনে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করার রীতি ছিল।
তবে চলতি মাসের শুরুতে নেপাল সফররত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শাহ একমাত্র ব্যতিক্রম করেছিলেন। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, শিল্পোদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গেও নিয়মিত বৈঠক শুরু করেছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এক সহযোগী দ্য কাঠমান্ডু পোস্টকে বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছেন। এখন সিদ্ধান্ত হয়েছে যে বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগ থাকা উচিত। নেপালের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার বিবেচনায় ভারত ও চীনের রাষ্ট্রদূতদের দিয়েই এ প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে।
গত ২৭ মার্চ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বালেন শাহ এমনকি নেপাল সফররত যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেননি। তিনি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সমীর পল কাপুর এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোরসহ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার সাক্ষাতের অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।