কালীগঞ্জে মাদকাসক্ত মেয়ের জামাইয়ের কোপে মজিদ মোড়ল (৭০) নামের এক কলা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল চারটার দিকে উপজেলার জামালপুর কলাপট্টিতে নিজের দোকানেই কুপিয়ে জখম করা হয় তাকে। পরে সন্ধ্যায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মজিদ মোড়ল জামালপুর মধ্যপাড়া এলাকার মৃত আলতু মোড়লের ছেলে। অভিযুক্ত মোজাম্মেল হোসেন ওরফে মুজা সরকার (৩৫) উত্তর জামালপুর সরকারপাড়া এলাকার মৃত নোয়াব আলী সরকারের ছেলে এবং মজিদ মোড়লের জামাতা।
পুলিশ, স্থানীয় সূত্র ও ছেলে বিল্লাল হোসেন মোড়ল জানান, মজিদ মোড়লের মেয়ে শাহানাজ বেগমের সঙ্গে মোজাম্মেলের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। নিয়মিত মাদক সেবনের পর স্ত্রী শাহানাজকে মারধর ও নির্যাতন করতেন মোজাম্মেল।
এ কারণে একাধিকবার স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন শাহানাজ। সম্প্রতি বেশ কিছুদিন ধরে বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। এর মধ্যে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে এবং পথেঘাটে স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে, যা নিয়ে শ্বশুর মজিদ মোড়লের সঙ্গেও তার বিরোধ তৈরি হয়।
স্বজনরা জানান, শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে নিজের কলার দোকানে বসা ছিলেন মজিদ মোড়ল। এ সময় একটি ট্রলি ব্যাগে কুড়াল লুকিয়ে সেখানে হাজির হন মোজাম্মেল। মজিদ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ব্যাগ থেকে কুড়াল বের করে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন তিনি। মজিদ মোড়ল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থলে ট্রলি ব্যাগ ফেলে রেখেই পালিয়ে যান মোজাম্মেল।
স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর আহত মজিদ মোড়লকে উদ্ধার করে প্রথমে জামালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, এক কলা ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি ৷এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।