ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতেই মনে হলো আমার পরিশ্রম সার্থক

লাক্স সুপারস্টার ২০২৫-এর মুকুট জিতে তারকা জগতে নতুন পদচারণা শুরু করেছেন বিদুষী বর্ণিতা। বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ড আর চলচ্চিত্রে অভিষেক নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। প্রথম চলচ্চিত্র ‘ক্যাফে আমব্রেলা’র অভিজ্ঞতা, সাফল্য এবং আগামীর স্বপ্ন নিয়ে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন

তারেক আনন্দ

লাক্স তারকা হওয়ার পর চারপাশের পরিবর্তনগুলো কেমন উপভোগ করছেন?

অনেকে ভাবেন লাক্স তারকা হওয়ার পর বদলে গেছি, তবে নিজের ভেতরে আমি আগের মতোই আছি। পরিচিত মানুষ আর বন্ধুরাও আগের মতো দেখছেন। কিন্তু পরিবর্তনের হাওয়াটা টের পাই বাইরে বের হলে। অনেক অপরিচিত মানুষ, এমন কি পুরনো পরিচিতরাও এগিয়ে এসে কাজের প্রশংসা করেন। রাস্তায় কেউ হুট করে থামিয়ে যখন বলেন, ‘আপনাকে খুব ভালো লাগে’, ‘আপনার থেকে অনুপ্রাণিত হই’ তখন এক অন্যরকম তৃপ্তি পাই। মনে হয়, এখন আমাকে আরও দায়িত্ব নিয়ে ভালো কাজ উপহার দিতে হবে। এই পজিটিভ অনুভূতিগুলো সত্যি ভীষণ উপভোগ করি।

তারকা পরিচিতি পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বন্ধুবান্ধব ও সহপাঠীদের প্রতিক্রিয়া কেমন?

প্রতিক্রিয়াগুলো আসলে ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব! সবাই অনেক পজিটিভ এবং আমাকে নিয়ে দারুণ গর্বিত। আমার শৈশবের স্কুলের অনেক বন্ধু, যাদের সঙ্গে একসময় তেমন কথা হতো না কিংবা মনে হতো তারা হয়তো আমায় পছন্দ করেন না, আজ তারাও এসে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। যখন বলে, ‘তোমার কাজ দেখেছি, উই আর ভেরি প্রাউড অব ইউ’, তখন মনটা ভরে যায়। মানুষ যখন এতটা ভালোবাসায় ভাসায়, তখন নিজেকে সার্থক মনে হয়।

বিজয়ী হওয়ার পর লাক্সের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কী কী কাজ সম্পন্ন হলো এবং কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

বিজয়ীর মুকুট পরার পরই লাক্সের মূল ব্র্যান্ড ক্যাম্পেইনের কাজ শুরু হয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে আমার বড় বড় বিলবোর্ড উঠে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও টেলিভিশনে প্রচারের জন্য একটি বড় বিজ্ঞাপনের কাজও শেষ করেছি। স্পয়লার দেওয়া ঠিক হবে কিনা জানি না, তবে এই অ্যাডের মাধ্যমে দেশের একজন স্বনামধন্য বড় পরিচালকের নির্দেশনায় কাজের প্রথম সুযোগ পেয়েছি। অভিজ্ঞতাটা দারুণ ও রোমাঞ্চকর ছিল। সামনে আরও বড় পরিসরে ক্যাম্পেইনটি আসছে।

এবার ‘ক্যাফে আমব্রেলা’ প্রসঙ্গ। প্রথম দিনের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা এবং কাজটির সার্বিক অনুভূতি জানতে চাই?

প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা একদম অন্যরকম ছিল। সেদিন সকালে আমার ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা ছিল, তাই পরীক্ষা শেষেই সোজা সেটে ছুটতে হয়েছে। তাড়াহুড়ার কারণে মনস্থির করা, নতুন সেটের আবহ বুঝে নেওয়ার সময় পাইনি, ভীষণ নার্ভাস লাগছিল। কিন্তু প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে যখন সোলো শট দিলাম, চোখের কোণে আবেগ চলে এসেছিল। মনে হয়েছিল, এতদিন যে হাড়ভাঙা খাটুনি করেছি, তার ফল আজ পেলাম। আর শুটিংয়ের আগে আমরা শিহাব স্যার (শিহাব শাহীন)-এর কাছে অনেক দিন রিহার্সেল করেছি, সহশিল্পীদের থেকেও শিখেছি। সব মিলিয়ে অনুভূতিটা অবিশ্বাস্য!

একই চলচ্চিত্রে আরও দুজন প্রতিযোগী আছেন; অভিনয়ে কি তাদের সঙ্গে এখনো কোনো প্রতিযোগিতার আমেজ কাজ করছে নাকি কাজের বোঝাপড়াটা চমৎকার?

আমরা একদম শুরু থেকে লড়াই করে এক জায়গায় এসেছি, ফলে আমাদের মধ্যে চমৎকার একটা বন্ডিং তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নাজার সঙ্গে আমার দারুণ বন্ধুত্ব। তবে সুস্থ প্রতিযোগিতা সবসময়ই থাকে। শিহাব স্যারও মজা করে বলতেন, ‘তোদের কিন্তু টেক্কা দিতে হবে!’ আমার মূল দর্শন হলো, অন্য কেউ আমার প্রতিযোগী নয়, আমি নিজেই নিজের প্রতিযোগী। গতকাল কেমন ছিলাম, তার চেয়ে আজ ভালো করলাম কিনা, সেটাই আমার মূল ভাবনার বিষয়। তা ছাড়া আমরা সেটে প্রচুর আড্ডা দিই, অনেক গোপন অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করি, যা বাইরের কেউ জানে না। তিনজন একসঙ্গে আছি বলেই একাকী নার্ভাসনেসটা কেটে গেছে।

নিশ্চিতভাবেই নতুন কাজের প্রচুর প্রস্তাব আসছে; সামনে কাজ নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন?

প্রস্তাব অনেক আসছে সত্যি, তবে আমি কাজের ক্ষেত্রে একটু বেশি সচেতন থাকতে চাই। বছরে ১০টি সাধারণ কাজ করার চেয়ে একটা মানসম্মত কাজ করা অনেক ভালো, যা দর্শক দীর্ঘদিন মনে রাখবে। আমি চাই কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় দিয়ে নিখুঁতভাবে প্রতিটি কাজের খুঁটিনাটি দেখে কাজ বেছে নিতে। তাড়াহুড়া করে সংখ্যা বাড়ানো আমার লক্ষ্য নয়, মান ধরে রেখে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়াটাই মূল উদ্দেশ্য।

শেষ প্রশ্নটা নিজেই, নিজেকে যদি করতে বলি, তাহলে কী বলবেন?

আজ থেকে ৫ বছর পর বিদুষী বর্ণিতাকে প্রশ্ন করতে চাই ‘তুমি কি তোমার স্বপ্নের জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছ? আর আমি বর্ণিতার কাছ থেকে উত্তরে শুনতে চাইব, সে এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে, যেখান থেকে বিশ্বমঞ্চে পুরো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। তার সব স্বপ্ন হয়তো শতভাগ পূরণ হয়নি, তবে সে একদম সঠিক পথে আছে, স্বপ্নের খুব কাছাকাছি আছে। এই বিশ্বাসটুকু নিয়েই সামনে এগোচ্ছি।