এজবাস্টনেও তিন দিনেই ইনিংস হারের পথে বাবররা 

এজবাস্টন টেস্টের চিত্রপটেও ফের স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এক চরম হতাশার গল্প। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে হেরে আগে থেকেই ব্যাকফুটে থাকা পাকিস্তান এবার হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াইয়েও চরম বিপর্যয়ের মুখে। ইংলিশ পেসার ওলি রবিনসনের আগুনঝরা বোলিং আর প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের বিশাল পাহাড়সম রানের জবাবে রীতিমতো খাদের কিনারায় চলে গেছে সফরকারীরা। বৃষ্টি নামায় আপাতত রক্ষা মিললেও তিন দিনেই ইনিংস হারের কালো ছায়া ঘিরে ধরেছে বাবর আজমের দলকে।

প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের ১৩৩ রানের জবাবে ৪৫৩ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় ইংলিশরা। সেখানে তৃতীয় দিনের বাকি সময়ের খেলায় ২ উইকেটে ৫২ রান তুলেছে বাবররা। এতে ফের একবার সিরিজে ইনিংস হারের লজ্জা কাটাতে এখনও ২৬৮ রান করতে হবে পাকিস্তানকে।

দ্বিতীয় দিনের সকালটা শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং তাণ্ডব দিয়ে। আগের দিন ১৫৬ রান নিয়ে মাঠ ছাড়ার পর এদিন ইংলিশ ব্যাটাররা পাকিস্তান বোলারদের পাত্তাই দেননি। হ্যারি ব্রুক ৭৫ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলার পথে দলের ভিত শক্ত করেন। একে একে ফিফটির দেখা পান জেমি স্মিথ, ড্যান লরেন্স ও পেসার রবিনসন। শেষ দিকে জফরা আর্চারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস থামে ৪৫৩ রানে। পাকিস্তানের পক্ষে অভিষিক্ত পেসার রাজাউল্লাহ ৪ উইকেট শিকার করলেও এই বিশাল রান পাহাড় থামানোর মতো প্রতিরোধ গড়তে পারেননি।

ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানি ওপেনারদের ব্যর্থতার পুরোনো রোগ যেন আরও মারাত্মক রূপ নেয়। ইনিংসের প্রথম বলেই রবিনসনের বলে সাইম আইয়ুব শূন্য রানে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ঠিক তিন বল পর একই পরিণতি বরণ করেন আরেক ওপেনার আবদুল্লাহ শফিকও। জো রুটের হাতে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে ফেরার মধ্য দিয়ে এই সিরিজে পাকিস্তানের ওপেনিং জুটির ব্যর্থতার বৃত্ত আরও পোক্ত হলো। চলতি সিরিজে তাদের কোনো ওপেনিং জুুটিতেই দুই অঙ্কের রান দেখা যায়নি।

মাত্র শূন্য রানে দুই উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে বিপর্যয় থেকে কিছুটা টেনে তোলার চেষ্টা করেন আজান আওয়াইস ও শান মাসুদ। আলোকস্বল্পতা এবং বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ হওয়ায় দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৫২ রান।ফলে তৃতীয় দিনে মাঠে নেমে ইনিংস পরাজয় এড়ানোই এখন সফরকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

লর্ডস টেস্টে ১৯৪ রান হারের আগে হেডেংলি টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানের ব্যবধানে হেরছিল পাকিস্তান। এতে কোচিং প্যানেল ও সাত ক্রিকেটার বদলে মান বাঁচাতে এজবাস্টনে নামে বাবর-মাসুদরা। তবে এখানেও সেই একই দৃশ্যপট। কোনো চমকের আবির্ভাব না হলে আরও এক বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পথে সফরকারীরা।