পিসিবির হঠকারিতায় তোপের মুখে পাকিস্তান ক্রিকেট, মিসবাহ’র পদত্যাগ 

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০০ পিএম

ইংল্যান্ডের মাটিতে চলমান টেস্ট সিরিজে শোচনীয় পারফরম্যান্সের পর থেকেই টালমাটাল পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্দরমহল। লর্ডস টেস্টে ১৯৪ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর সিরিজ হাতছাড়া হওয়া কেবল মাঠের ব্যর্থতাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এর রেশ ধরে পিসিবি যে রূপরেখা বা সংস্কারের নামে দলকে বদলে দেওয়ার যে দৌড়ে নেমেছে তাতে নড়েচড়ে বসেছে গোটা ক্রিকেট দুনিয়া।

হারের গ্লানি মোছার অজুহাতে মাঝপথে স্কোয়াড থেকে সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো এবং মাত্র পাঁচ ম্যাচ দায়িত্ব পালনের পরই কোচকে বরখাস্ত করার মতো হঠকারী সিদ্ধান্তগুলো এখন বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি)।

আকস্মিক এই বিশৃঙ্খলার জেরে শুধু সাবেক তারকারাই ক্ষুব্ধ হননি, বরং খোদ বোর্ডের ভেতর থেকেও পদত্যাগের হিড়িক শুরু হয়েছে। দলের এই নজিরবিহীন পরিবর্তনের প্রতিবাদে পুরুষ জাতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচক প্যানেল এবং ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমির ব্যাটিং পরামর্শকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক। যদিও ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পিসিবি এখনও তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি। 

ইংল্যান্ড সফরের এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে স্কোয়াডে টি-টোয়েন্টি ঘরানার খেলোয়াড়দের হঠাৎ টেনে আনা এবং কোচ সরফরাজ আহমেদকে অপসারণের তীব্র সমালোচনা করেছেন কিংবদন্তি অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে আফ্রিদি বলেন, ‘কেন ৫ টেস্ট ম্যাচ পর কোচকে বরখাস্ত করা হলো? এত অভিজ্ঞ নির্বাচক থাকা সত্ত্বেও সিলেকশন কমিটির পক্ষ থেকে এটিই সবচেয়ে বোকামি ভরা ও শকিং সিদ্ধান্ত।’ বিশেষ করে লাল বলের ক্রিকেটে যেখানে দীর্ঘ পরিসরের ধৈর্য ও ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়, সেখানে টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞদের হুট করে দলে ভিড়ানোর কৌশলকে সম্পূর্ণ অবিবেচক হিসেবে দেখছেন তিনি।

মাঝপথে খেলোয়াড়দের বাদ দেওয়া নিয়ে শোয়েব মালিকের তীব্র আপত্তি

সিরিজের মাঝপথে খেলোয়াড়দের এভাবে কোণঠাসা করে দেশে ফেরত পাঠানোর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আরেক সাবেক অধিনায়ক শোয়েব মালিক। তিনি মনে করেন, এই ধরনের রূঢ় আচরণ তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে ভেঙে দেয় এবং ব্যর্থতার ভয়ে তাদের তটস্থ করে তোলে।

নিজের এক্স হ্যান্ডেলে শোয়েব স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘যেসব খেলোয়াড়দের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তারা এখনও আমাদের দেশেরই ক্রিকেটার, যারা পাকিস্তানকে সেবা দিয়েছে। 'প্রথম ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠানো'-র মতো শব্দগুলো অপমানজনক। জবাবদিহিতা শুরু হওয়া উচিত তাদের থেকে যারা সিস্টেম ভেঙেছে, খেলোয়াড়দের থেকে নয়; বিশেষ করে যারা বেঞ্চে ছিল বা মাত্র ২-৩টি টেস্ট খেলেছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রতিটি বাজে ম্যাচের পর বা ব্যর্থতার ভয়ে খেলোয়াড়দের এমন মানসিক চাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রমার মধ্য দিয়ে যাওয়া উচিত নয়।’ 

মিকি আর্থারের চোখে পিসিবির ব্যর্থতার ফর্মুলা

শুধু দেশীয় তারকারাই নন, পিসিবির এই হঠকারিতাকে পাকিস্তান ক্রিকেটের চিরস্থায়ী সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন পাকিস্তানের সাবেক কোচ মিকি আর্থার। বোর্ডের ধারাবাহিক পরিবর্তন ও পরিকল্পনাহীনতার কড়া সমালোচনা করে আর্থার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘পিসিবির অত্যন্ত হাস্যকর সব সিদ্ধান্ত। এ কারণেই তারা বর্তমান এই বেহাল দশায় রয়েছে। কারণ তারা প্রতিনিয়ত খেলোয়াড়, কোচ ও নির্বাচকদের বদলে ফেলে এবং সেখানে কোনো স্থিতিশীলতা নেই! পরিকল্পনা, স্থিতিশীলতা এবং সঠিক কাঠামো মানেই হলো ধারাবাহিক পারফরম্যান্স।’ 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত