মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ: শিক্ষককে মারধর করে পুলিশে দিল জনতা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছে উত্তেজিত জনতা। একই ঘটনায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকেও পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) মির্জাপুর পৌরসভাধীন বংশাই রোডের মারকাজুল উম্মাহ মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামুর্কী ইউনিয়নের একটি গ্রামের ১০ বছর বয়সী ওই শিশুকে মাদ্রাসাটির নাজেরা বিভাগে আবাসিক সেশনে ভর্তি করানো হয়। গত প্রায় তিন মাস ধরে তার পেটব্যথা, পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। পরে চিকিৎসা শেষে ১১ দিন আগে তাকে আবার মাদ্রাসায় পাঠানো হয়। তবে এরপর শিশুটির শারীরিক অবস্থার আবারও অবনতি হলে সে তার মাকে বিষয়টি জানায়।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মির্জাপুর সদরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে শিশুটির বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষার পর তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে পরিবারকে বিস্তারিত জানানো হয়। এতে শিশুটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে পরিবারের কাছে প্রতীয়মান হয়।

এরপর ছাত্রের পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করেন।

শুক্রবার সকালে ছাত্রের মা, নানা ও মামা মাদ্রাসায় গিয়ে আবারও বিচার দাবি করলে সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসার সামনে জড়ো হন। এ সময় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে মারধর করেন।

এদিকে, মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি প্রতিষ্ঠানের গেট বন্ধ করে ছাত্রদের লাঠি হাতে জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছিল এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, অভিযোগের ঘটনায় আল আমিনকে আর মাদ্রাসায় রাখা হবে না।

অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, শিশুটির অভিযোগ সত্য নয়।

মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষক ও মাদ্রাসার প্রিন্সিপালকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আল আমিনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আর প্রিন্সিপালকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।