দাদির আকুতিতে সাড়া ডা. জুবাইদার

সাত মাস বয়সী শিশু হুসাইন। চার পাশের পৃথিবীর আলো-বাতাস যখন তার চেনার কথা, ঠিক তখন এক চরম অসহায়ত্ব নেমে আসে ছোট্ট জীবনে। মা মারাত্মক অসুস্থ থাকায় মায়ের বুকের দুধ থেকেও বঞ্চিত। পরিবারে পুরুষ অভিভাবক থেকেও নেই। কারণ শিশুটির বাবার কর্মক্ষমতা নেই। একমাত্র উপার্জনক্ষম শিশুটির বৃদ্ধ দাদি।

এই বয়সে তার বিশ্রাম নেওয়ার কথা, সেখানে তাকে লড়তে হচ্ছে পুরো পরিবারের বেঁচে থাকার যুদ্ধে। তার সামান্য আয়ে দুবেলা ঠিকমতো খাবারই জোটে না, সেখানে নাতির জন্য বাজারের দুধ কেনা আর চিকিৎসার খরচ চালানো ছিল এক অসম্ভব স্বপ্ন। ক্ষুধার তীব্রতায় আর সুচিকিৎসার অভাবে নিভে যাচ্ছিল ফুটফুটে শিশুটির প্রাণ। তাদের গ্রামের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের শ্রীরিফলতলা গ্রামে। ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে যখন এই অসহায়ত্বের করুণ চিত্রটি ছড়িয়ে পড়ে, তখন তা গভীরভাবে নাড়া দেয় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানকে। একজন মায়ের অসুস্থতা আর একটি শিশুর ক্ষুধার্ত কান্না তাকে ব্যথিত করে।

তিনি তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির পাশে দাঁড়ানোর মানবিক সিদ্ধান্ত নেন। তার আন্তরিক নির্দেশনায় ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করেন। অবশেষে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ছোট্ট হুসাইনের জন্য নিয়মিত দুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, হুসাইনের বাবা-মা দুজনই শারীরিকভাবে অসুস্থ। সংসারের ভার মূলত বৃদ্ধ দাদির ওপর। পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতেই তাকে হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে শিশুটির জন্য দুধ ও তার মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না। তারা জানান, মায়ের বুকের দুধ না পাওয়ায় একপর্যায়ে শিশুটিকে লবণপানি খাওয়ানো হচ্ছিল। পরে শিশুটির মধ্যে গুরুতর অপুষ্টি, ত্বকের সমস্যা এবং মুখে ক্যান্ডিডিয়াসিসের উপসর্গ দেখা দেয়।

এ অবস্থায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং ফাউন্ডেশনের সদস্য ডা. এম. আর. হাসানের তত্ত্বাবধানে হুসাইন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে শিশুটির চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় দুধ এবং পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হয়।

হুসাইনের দাদি কাঞ্চন বিবি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি ভিক্ষা করে সংসার চালাই। বাচ্চাটার দুধ কেনার সামর্থ্য আমার নেই। আমি আমার নাতিটাকে বাঁচাতে চাই।’ অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিষয়টি কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।