অস্ট্রেলিয়া সফরে জ্যোতিই অধিনায়ক

সাম্প্রতিক আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের নেতৃত্বে নিগার সুলতানা জ্যোতিকেই বহাল রাখছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আগামী ৩ অক্টোবর আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরে দলনেতা হিসেবে তিনিই দায়িত্ব পালন করবেন। তবে একই সঙ্গে নারী দলের প্রধান কোচ সারওয়ার ইমরানের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তা ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ বা আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে বিসিবি।

গতকাল সোমবার এশিয়ান গেমস শেষে দেশে ফেরা নারী দল ও বোর্ডের শীর্ষ কর্তাদের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি, নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু এবং ভাইস চেয়ারম্যান তুহিন। সভাশেষে বিসিবির নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে দল ও টিম ম্যানেজমেন্টের নাম ঘোষণা করা হবে। তবে অধিনায়কত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া সব সংশয় দূর করে জ্যোতিকে নেতৃত্ব চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি কোচের কিছু বক্তব্য এবং জ্যোতির অধিনায়কত্ব ছাড়া সম্পর্কিত চর্চা প্রসঙ্গে নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা অফিশিয়ালি কোনো মন্তব্য করার আগেই কোচ কিছু বেফাঁস কথা বলেছেন, যা কারও কাম্য ছিল না। উনি বিসিবির চুক্তির অধীনে থেকে এভাবে কথা বলতে পারেন না। এটা আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন ও চরম দুঃখজনক। উনি একজন অভিজ্ঞ ও প্রবীণ কোচ, তার কাছ থেকে এমন মন্তব্য আশা করা যায় না। এটি তার একটি মারাত্মক ভুল।’

অধিনায়কত্ব ছাড়ার গুঞ্জন বা মেইল পাঠানো প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম জানান, সোশ্যাল মিডিয়া বা চতুর্মুখী চাপে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে জ্যোতি এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। তবে বোর্ডের সঙ্গে কথা না বলে মিডিয়া বা মেইলে যাওয়া ঠিক হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পদত্যাগ বা অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বোর্ডের সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল এবং জ্যোতিও বুঝতে পেরেছে যে (বোর্ডকে না জানিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা) ভুল ছিল।’

দলের মানসিক অবস্থা ও শৃঙ্খলা নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘খেলোয়াড়রা কোনো সংস্থা বা ব্যক্তির নয়, ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই দলের ভেতরে শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড বজায় রাখাই সবচেয়ে জরুরি।’ এ ছাড়া প্রধান কোচের মেজাজ ও আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘উনি হয়তো একটু উগ্র মেজাজি, ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঠিক করেননি। যার কারণে মেয়েরা কিছুটা ডিমোরালাইজড থাকত।’