ভালো খেলেও হার

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪০ এএম

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের হার দিয়ে আসিয়ান কাপ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে প্রতিশোধের ভাবনা ছিল। তা তো হইনি; আবার হেরেছেন জামাল-হামজারা। তবে হারলেও বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে ছিল বড় পরিবর্তন। গতকাল সোমবার আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করেছে লাল-সবুজের দল। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচশেষে বাংলাদেশ কোচ টমাস ডুলির কণ্ঠে তাই হতাশার চেয়ে দলের পারফরম্যান্সের প্রশংসাই বেশি ছিল। তার মতে, মালয়েশিয়ার ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া ছিল ইতিবাচক। বিশেষ করে বলের দখল রেখে খেলা, প্রতিপক্ষকে জায়গা না দেওয়া এবং ৫০-৫০ বল জেতার ক্ষেত্রে উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। ডুলি বলেন, ‘আমরা গত ম্যাচের চেয়ে ভিন্ন একটি দল দেখেছি। খেলোয়াড়রা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তাতে আমি খুবই আনন্দিত। আমরা ফুটবল খেলার চেষ্টা করেছি এবং খেলোয়াড়রা মাঠে কী করার চেষ্টা করেছে, সেটিও দেখা গেছে। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আমরা ফুটবল খেলতে পেরেছি।’

ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে বাংলাদেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। শমিত সোমের একটি সুযোগও কাজে আসেনি। ডুলির মতে, গোল করতে পারলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত। ‘শেষ ২০ মিনিটে যদি আমাদের গোল করার সুযোগগুলো কাজে লাগত, তাহলে হয়তো ফল আমাদের পক্ষে আরও ইতিবাচক হতে পারত। শমিতের চমৎকার একটি সুযোগ ছিল, সে হেড মিস করেছে। তবে খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টা খুব ভালো ছিল। আমরা ১১ জন খেলোয়াড় নিয়েই লড়েছি, আগের ম্যাচের মতো নয়। সবাই বুঝতে পেরেছে, লড়াই করলে এবং প্রতিপক্ষকে বেশি জায়গা না দিলে আমরা তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি’, বলেন কোচ।

বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের সীমাবদ্ধতাকেও দলের পারফরম্যান্সের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন ডুলি। তার মতে, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর কিংবা ইন্দোনেশিয়ার মতো নিয়মিত ও শক্তিশালী লিগ না থাকায় বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা প্রতি সপ্তাহে উচ্চমানের প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ কম পান। ডুলি বলেন, ‘ফুটবলে মূল বিষয়টাই হলো প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশে আমাদের যে ঘরোয়া প্রতিযোগিতা রয়েছে, তা খুব বেশি বড় নয়। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর বা ইন্দোনেশিয়ার মতো লিগ আমাদের নেই। এ রকম লিগ থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে প্রতি সপ্তাহে খেলোয়াড়রা ম্যাচ খেলে এবং ভুল থেকে শেখার সুযোগ পায়। এই ঘাটতিটাই আমাদের রয়েছে।’

তবে আসিয়ান কাপকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন এই কোচ। তার মতে, এই টুর্নামেন্টে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলে নিজেদের অবস্থান বোঝার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। ডুলির ভাষায়, ‘আমরা এখানে সবাইকে হারিয়ে দিতে আসিনি; বরং নিজেদের ভুলগুলো চিহ্নিত করে তা থেকে শিখতে এসেছি। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি খেলোয়াড়দের জন্য একটি বড় শিক্ষা ছিল। আর আজকের ম্যাচ প্রমাণ করেছে যে আমরা খেলতে পারি এবং সিঙ্গাপুরকে হারানোর মতো সামর্থ্যও রাখি।’

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচে একাদশে ছিলেন সাতজন প্রবাসী। সব মিলিয়ে ম্যাচে খেলেছেন ৯ প্রবাসী। তারপরও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে গোল করার ঘাটতির কথাই উল্লেখ করেন ডুলি। তার মতে, দলে এখনো এমন একজন নিখুঁত স্ট্রাইকার তৈরি হয়নি, যিনি পাওয়া সুযোগগুলো নিয়মিত গোলে পরিণত করতে পারেন। আক্রমণভাগের দুই খেলোয়াড় সুকি ইতোফুসা ও শেখ মোরসালিনের পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বলেছেন কোচ। সুকি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন। অন্যদিকে মোরসালিন প্রায় ১০ দিন চোটের কারণে অনুশীলনের বাইরে ছিলেন। ফলে ম্যাচের একপর্যায়ে তাদের ক্লান্ত হয়ে পড়াটাকে স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন ডুলি।

বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘সুকি আমাদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো খেলছে। আর মোরসালিন প্রায় ১০ দিন ইনজুরিতে ছিল, অনুশীলনের বাইরে ছিল। মাত্র দুই দিন অনুশীলন করে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ২০ মিনিট খেলেছিল। স্বাভাবিকভাবেই একপর্যায়ে খেলোয়াড়রা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। যখন তারা এত দৌড়াদৌড়ি করে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন তাজা খেলোয়াড় নামানোর প্রয়োজন হয়।’

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের অতিরিক্ত লং বল খেলার প্রবণতারও সমালোচনা করেছেন ডুলি। তার মতে, বলের দখল রেখে পরিকল্পিত ফুটবল খেলতে হবে দলকে। ‘আমরা আগের ম্যাচের মতো শুধু লং বল খেলিনি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে লং বল প্রতিপক্ষের পায়ে চলে যায় এবং পরে সেই বলের পেছনে ছুটতে হয়। আমি চাই দল বলের দখল রেখে খেলুক। দাবা খেলার মতো ফুটবলেও পরিকল্পনা করে খেলতে হয় পরবর্তী দুই-তিন সেকেন্ডে কী হবে, সতীর্থরা কোথায় আছে, তা স্ক্যান করতে হয়।’

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দলের উন্নতিতে সন্তুষ্ট ডুলি এখন শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষেও ইতিবাচক কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। তার লক্ষ্য, আসিয়ান কাপ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য দলকে আরও প্রস্তুত করা। সেট পিস নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো সমালোচনাও উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ। তার দাবি, বাংলাদেশে ক্যাম্প চলাকালে কর্নার ও ফ্রি কিক নিয়ে অনুশীলন করেছে দল। তবে বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত দুটি অনুশীলন সেশন পুরোপুরি করা সম্ভব হয়নি। ডুলি বলেন, ‘না, আমরা সেট পিস অনুশীলন করেছি। তবে এখানে আসার পর নয়, বাংলাদেশে ক্যাম্প করার সময় করেছি। বৃষ্টির কারণে মাঠের অবস্থা খারাপ থাকায় আমাদের নির্ধারিত দুটি সেশন পুরোপুরি করতে পারিনি। ফ্রি কিকের জন্য আমাদের এক-দুটি নির্দিষ্ট কৌশল ছিল, কিন্তু ম্যাচে সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে কর্নার বা ফ্রি কিক কীভাবে নিতে হবে, তা খেলোয়াড়দের জানা আছে। ফেসবুকে যা শোনেন, তার সবকিছু বিশ্বাস করবেন না।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত