ইউরোপিয়ান অনূর্ধ্ব-২১ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে সান মারিনো স্টেডিয়ামে এক অবিস্মরণীয় রাত উপহার দিয়েছে স্পেনের যুবারা। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ১৩-০ ব্যবধানের বিশাল জয় তুলে নেওয়ার পথে পুরো আলো কেড়ে নিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের উদীয়মান ফরোয়ার্ড কার্লোস এসপি। অনূর্ধ্ব-২১ দলের জার্সিতে এটি ছিল তার প্রথম ম্যাচ, আর অভিষেকেই ৫ গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে ইতিহাস গড়েছেন এই তরুণ তারকা।
স্পেনের এই বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরিতে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ পাঁচ গোল করার কোনো রেকর্ড এর আগে ছিল না, যেখনেই নতুন ইতিহাস গড়েছেন এসপি।
ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি চেপে ধরে স্প্যানিশরা। ১৭ মিনিটে ক্রসবারে শট লাগিয়ে নিজের গোলক্ষুধার প্রথম বার্তা এসপি। এরপর ৩৪ মিনিটে দলের চতুর্থ গোলটি করে গোলের খাতা খোলেন তিনি। এর আগেই সতীর্থ করে ফেলেছেন আরও তিনটি।
দ্বিতীয়ার্ধে তার পায়ের জাদুতে খেই হারিয়ে ফেলে স্বাগতিক ডিফেন্ডাররা। ৫১ মিনিটে দারুণ এক হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেন, আর ৬২ মিনিটে ভার্গিলির ক্রস থেকে চোখ জুড়ানো ব্যাকহিল ফিনিশিংয়ে নিজের হ্যাটট্রিক ও দলের অষ্টম গোলটি পূর্ণ করেন।
এখানেই থেমে থাকেনি তার গোল উৎসব; ৬৫ মিনিটে রিবাউন্ড থেকে চতুর্থ এবং ৭৬ মিনিটে গোলকিপারের ফিরিয়ে দেওয়া বল থেকে ম্যাচের পঞ্চম ও নিজের শেষ গোলটি আদায় করে নেন এই রিয়াল ফরোয়ার্ড।
অ্যালবেনিয়া ও সার্বিয়ায় হতে যাওয়া ২০২৭ উয়েফা ইউরোপিয়ান অনূর্ধ্ব-২১ চ্যাম্পিয়নশিপের মূল পর্বে ওঠার লড়াইয়ে এই জয়ে গ্রুপ ওয়ানের (গ্রুপ এ) শীর্ষস্থান আরও শক্ত করল স্পেন। নিকটতম প্রতিপক্ষ ফিনল্যান্ডের চেয়ে দুই পয়েন্ট এগিয়ে থাকা স্প্যানিশদের সংগ্রহ এখন ২৪ পয়েন্ট। আগামী ৬ অক্টোবর ইবিজায় রোমানিয়ার বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলতে নামবে তারা।
গত গ্রীষ্মে লেভান্তে ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে পাড়ি জমানো এই তারকার সঙ্গে স্প্যানিশ জায়ান্টদের চুক্তি রয়েছে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত। এর আগে লেভান্তের হয়ে তিন মৌসুমে ৬৬ ম্যাচে ২০ গোল করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন তিনি। এছাড়া স্পেন অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে আলো ছড়ানোর পর বর্তমান আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-২১ দলে ডাক পান এসপি। আর প্রথম সুযোগেই ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ও ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের আগমনী বার্তা জোরালোভাবে ঘোষণা করলেন এই তরুণ সেনসেশন।