পোশাকশিল্পের বর্জ্য কমাতে নতুন উদ্যোগ এনএসইউতে

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট (ডিপিপি) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে আরও টেকসই, দক্ষ ও নিরাপদ করার উপায় নিয়ে একটি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান মিলনায়তনে ‘ডাটা ডেভেলপ প্রাইজ (ডিডিপি) ২০২৬ বিডি কেস কম্পিটিশন’ শীর্ষক এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিযোগিতার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘এআই-সক্ষম AnyDPP-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের পুনর্চিন্তা: কম বর্জ্য, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ শিল্পপরিবেশ গড়ে তোলা’। এতে শিল্পবর্জ্য কমানো, সরবরাহব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বিষাক্ত রাসায়নিকের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, নির্মল বায়ু নিশ্চিত করা এবং কারখানার নিরাপত্তা জোরদারে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হংকংভিত্তিক ডেটা ডেভেলপ কনসালটিং লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এশিয়া সার্কুলার ইকোনমি অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক পরিচালক ড. হেনরি সু। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন একাডেমি অব গার্মেন্টস টেকনোলজি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লিডিয়া সু, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান।

প্রধান অতিথি ড. হেনরি সু বলেন, বাংলাদেশের পোশাকশিল্প পরিবেশগত সমস্যা ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাসংক্রান্ত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব সমস্যা মোকাবিলায় উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান প্রয়োজন। এআই-সক্ষম AnyDPP উদ্যোগটি বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবস্থাপনা, নির্মল বায়ু নিশ্চিত করা এবং কারখানার নিরাপত্তাসহ শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উদীয়মান প্রযুক্তি ও উন্নত তথ্যব্যবস্থাপনার ব্যবহার পোশাকশিল্পকে আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ এবং কম বর্জ্যনির্ভর ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বস্ত্র ও পোশাকশিল্পের উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং টেকসই শিল্পচর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার শিল্পবর্জ্য কমানো, দক্ষতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।

এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, শিল্পের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে একাডেমিক গবেষণার সংযোগ স্থাপনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষার্থী, গবেষক ও শিল্প খাতের নেতাদের একত্র করার মাধ্যমে দায়িত্বশীল উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং বাস্তব সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরি করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতা টেকসই শিল্পচর্চার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে। পাশাপাশি, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য স্নাতকদের প্রস্তুত করতেও সহায়তা করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদ বলেন, পরিবেশ ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর সমাধান তৈরির জন্য শিক্ষাঙ্গন ও শিল্প খাতের মধ্যে সহযোগিতা অপরিহার্য। শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা উদ্ভাবনের সুযোগ বাড়ায় এবং আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও টেকসই পোশাকশিল্প গড়ে তোলার পথ তৈরি করে।

অনুষ্ঠানে দুটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনায় উদীয়মান প্রযুক্তির ব্যবহার, টেকসই উন্নয়ন এবং শিল্প খাতের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের রূপান্তরের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা ও বিজয়ীদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এতে প্রথম পুরস্কার অর্জন করে টিম ল্যাজারাস।