দুর্গাপূজায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশেষ খাবার বিভিন্নপদের নারিকেলের নাড়ু। যা প্রতিটি সনাতনী পরিবারে মানুষ অতিথি আপ্যায়নে ব্যবহার করে থাকেন। তবে এবছর বগুড়ার বাজার ও ফুটপাতে চোখে পড়ে ভারতীয় নারিকেল। আড়ৎগুলোতেও খোঁজ নিয়েও একই চিত্র চোখে পড়ে।
দেশি নারিকেলের তুলনায় ভারতীয় নারিকেলের দাম প্রায় অর্ধেক বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাই দেশি নারিকেলের তুলনায় ভারতীয় নারিকেল কিনছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
বগুড়ার বাজারে দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে সবচেয়ে বেশি নারিকেলে আসে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে তা দিয়ে এবার চাহিদা মেটানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তারা। সেইসাথে দেশি নারিকেলের দাম তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ভারতীয় নারিকেলের তুলনায়।
সরেজমিনে শনিবার বগুড়া শহরের রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার, কলেজ বাজার, চেলোপাড়া চাষী বাজার, কলোনী বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, দেশি নারিকেলে নেই বললেই চলে। বেশির ভাগ বাজারে চোখে পড়ে ভারতীয় নারিকেল। দোকানীরা বলছেন, দেশি ডাবের দাম অনেক বেশি। তাই ডাব থেকে যেহেতু নারিকেল হয় ফলে দেশি নারিকেলের দাম আরও বেশি। তবে বাজারে ভারতীয় নারিকেল ঢোকায় বেচাকেনা বেশি হচ্ছে। দেশি নারিকেলের তুলনায় ভারতীয় নারিকেলের পুর (আস্তরন) বেশি মোটা। খুচরা দেশি নারিকেল ছোটগুলো প্রতিটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা ও বড়গুলো প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা দরে।
অপরদিকে ভারতীয় নারিকেল বিক্রি হচ্ছে ছোটগুলো প্রতিটি ৫০ থেকে ৭০ টাকা ও বড়গুলো বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ১০০ থেকে ১৪০ টাকা দরে।
বগুড়া শহরের ফতেহ আলী বাজারে নারিকেল কিনতে আসা এনজিওকর্মী শ্যামল বিশ্বাস জানান, দেশি নারিকেলের দাম অনেক বেশি। তাই বাধ্য হয়ে ভারতীয় নারিকেল কিনছি। পূজায় অন্যতম খাবারগুলোর মধ্যে নাড়ু অন্যতম। অতিথি আপ্যায়ন বলেন বা পূজার প্রসাদে বলেন, নাড়ু লাগবেই। নাড়ু যেহেতু লাগবে, তাই নারিকেল কেনারি বিকল্প নাই।
ফতেহ আলী বাজারের ব্যবসায়ী কিশোর সাহা বলেন, এবার দেশি নারিকেলের তুলনায় ভারতীয় নারিকেলের চাহিদা বেশি। কারণ দেশি নারিকেলের তুলনায় ভারতীয় নারিকেল ছোট হলেও দামে কম। অনেকেই বলছেন ভারতীয় নারিকেলের মান ভাল। তারমধ্যে সবার তো আর বেশি দামে কেনারি সক্ষমতা নেই।
এদিকে দুপুরের পর বগুড়া শহরের স্টেশন সড়কে নারিকেলের আড়ৎগুলো গেলে চোখে পড়ে দেশি নারিকেলের চেয়ে ভারতীয় নারিকেলে আড়ৎগুলো ভরে রাখা হয়েছে। দেশি নারিকেল পাইকারি দরে ছোটগুলো প্রতিটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও বড়গুলো প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা দরে। অপরদিকে ভারতীয় নারিকেল পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ছোটগুলো প্রতিটি ৪০ থেকে ৬০ টাকা ও বড়গুলো বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ৯০ থেকে ১২০ টাকা দরে।
আড়তে কথা হয় গাবতলীর মহিষাবান এলাকার দই বিক্রেতা মিথুন প্রামানিকের সাথে। তিনি বলেন, শহরের এই আড়ৎগুলোতে নারিকেলের দাম কম। তাই এখান থেকে কিনি। এবার দেশি নারিকেলের তুলনায় ভারতীয় নারিকেলের দাম কম। তাই ৪ জোড়া ছোট নারিকেলে কিনলাম ৪০০ টাকা দিয়ে। এই দামে দেশি নারিকেলে পাওয়া কঠিন বলেও জানান তিনি।
আনোয়ার নারকেল ঘরের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন জানান, প্রতিবছর বগুড়ায় যে পরিমান নারিকেলের দরকার হয় এবছর তা পাওয়া যায়নি। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ভোলা ও বরিশাল থেকে সবচেয়ে বেশি নারিকেল আসে বগুড়ায়। চলতি বছরে ভারতীয় নারিকেল আসায় বিক্রি বেশি হচ্ছে। দেশির তুলনায় ভারতীয় নারিকেলের চাহিদা অনেক বেশি।
নারিকেল বেচা-কেনা’র ব্যবসায়ি বাদল প্রাং জানান, ভারতীয় নারিকেল না আসলে এবার অনেকে পক্ষে দেশি নারিকেল কিনে নাড়ু বানানো কঠিন হয়ে যেত। দেশের বিভিন্ন বর্ডার দিয়ে ভারতীয় নারিকেল আসায় ভাল হয়েছে। গত ৩/৪ বছর ধরে দুর্গাপূজার সময় ভারতীয় নারিকেল আসে আমাদের দেশে।
বগুড়া রাজাবাজার ব্যবসায়ি ও আড়ৎদার ব্যবসায়ি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও পূজা উদযাপন পরিষদ বগুড়া মহানগর শাখার সভাপতি পরিমল প্রসাদ রাজ জানান, দেশের বাজারে যদি ভারতীয় নারিকেল না ঢুকতো তাহলে অনেক সনাতনীর পক্ষে দেশীয় নারিকেল কেনা কঠিন হতো। ভারতীয় নারিকেল আমদানি হয়েছে, যা দামে কম এবং মানেও বেশ ভাল। সরকারের কাছে আবেদন থাকবে আগামীতে যেন ভারতীয় নারিকেলের ট্যাক্স কমানো হয়। যাতে সকল শ্রেণির সনাতন ধর্মালম্বীরা এটি সহজেই ক্রয় করতে পারে।