বগুড়ায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহে সাময়িক সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।
ব্যাংকিং ও ঋণসংক্রান্ত জটিলতায় সময়মতো এলসি (ঋণপত্র) খুলতে না পারা, আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজ সংকট এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে এই সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের করতোয়া সম্মেলন কক্ষে এলপিজি ব্যবস্থাপনা ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ী ও কোম্পানি প্রতিনিধিরা এসব তথ্য জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান।
সভায় কোম্পানি প্রতিনিধিরা জানান, ব্যাংকিং বিধিনিষেধ ও ঋণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেক আমদানিকারক নির্ধারিত সময়ে এলসি খুলতে পারেননি। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়ায় জাহাজের বিমা ও প্রিমিয়াম ব্যয় বেড়েছে। ফলে সময়মতো জাহাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
সভায় জানানো হয়, বগুড়ায় ডেল্টা ও বেঙ্গলসহ কয়েকটি কোম্পানির সরবরাহ বন্ধ বা সীমিত থাকলেও ফ্রেশ, ওমেরা, বিএম ও যমুনা গ্যাসের সরবরাহ চালু রয়েছে।
মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ক্যাশ মেমো ছাড়াই বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ হোসেন বলেন, সরকার বা বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যই মাঠপর্যায়ে কার্যকর করতে হবে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা ক্যাশ মেমো ছাড়া অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত সমস্যা ও প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।