বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শুধু কম খরচের শ্রম, জ্বালানি ও ব্যাপক উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। উদ্যোক্তারা মনে করেন, উদ্ভাবন, উচ্চমূল্যের পণ্য এবং উন্নত উৎপাদন দক্ষতার দিকে অগ্রসর হতে হবে। আর এ লক্ষ্যে টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬ এর আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার মেলা উপলক্ষে রাজধানীর এক হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্প উদ্যোক্তারা এ মতামত দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ১২ ও ১৪ নভেম্বর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরাতে অনুষ্ঠিতব্য এই এক্সপোতে টেক্সটাইল ও পোশাক কারখানা, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, ব্র্যান্ড, ক্রেতা, গবেষক ও শিল্প পেশাজীবীরা উদ্ভাবনভিত্তিক পণ্য, প্রক্রিয়া, প্রযুক্তি ও সমাধান প্রদর্শন করা হবে।
এক্সপোটি আয়োজন করছে টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ (টিআইই), সহ-আয়োজক টেক্সটাইল ইনোভেশন সেন্টার (টিআইসি), সহযোগিতায় ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি), এবং অংশীদার হিসেবে আছে বিজিএমইএ ও বিজিবিএ। এক্সপোটি বাস্তবায়ন করছে টেক্সটাইল টুডে ইনোভেশন হাব (টিটিআইএইচ)। এর লক্ষ্য বাংলাদেশকে উদ্ভাবননির্ভর উৎপাদন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, আইটিইটি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. এনায়েত হোসেন; বিকেএমইএ পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ইমরান কাদের তুর্জো; বিজিবিএ প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল হামিদ; আইটিইটি সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার সুমায়েল মুহাম্মদ মল্লিক; আইটিইটি বাংলাদেশের মহাসচিব এবং টিআইই সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এ.এস.এম. হাফিজুর রহমান নিক্সন এবং টিআইই চেয়ারম্যান ও টিটিআইএইচ এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ইহসানুল করিম কায়সার।
আয়োজকরা জানান, ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাকের গড় মূল্য প্রতি কেজিতে ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমেছে, যেখানে ভিয়েতনামের বেড়েছে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এই প্রবণতা বাংলাদেশের জন্য পণ্যের মূল্য ও উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
মেলায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে টেক্সটাইল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬। বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পে কারখানাভিত্তিক উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, পণ্য উন্নয়ন এবং টেকসই ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দিতেই এ পুরস্কারের আয়োজন। এ বছর পুরস্কারটি আটটি বিভাগে প্রদান করা হবে।