কিস্তি দিতেই আয়ের ৭৯% ব্যয় করে দরিদ্র পরিবার

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৪ এএম

দেশের গ্রামাঞ্চলে ক্ষুদ্রঋণের পরিধি বাড়লেও নির্ধারিত সময়ে কিস্তি পরিশোধে চাপে পড়ছে দরিদ্র পরিবারগুলো। কিস্তি দিতেই এসব পরিবারের আয়ের ৭৯ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় করে থাকে। এ ছাড়া ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে ৪১ শতাংশ পরিবার তাদের আয়ের ৪০ শতাংশ ব্যয় করে ঋণের কিস্তি পরিশোধে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিআইডিএসের কনফারেন্স রুমে ‘ফাইন্যান্সিং ফুড সিস্টেমস ইন বাংলাদেশ : এভিডেন্স অ্যান্ড পলিসি ডায়ালগ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক ড. কাজী ইকবাল। বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. একে এনামুল হকের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণায়ের সচিব মো. সেলিম খান।

অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (আইএফপিআরই) কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. মুগ্ধ মাহজাব, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বক্তব্য রাখেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামীণ ঋণগ্রহীতা পরিবারগুলোর মধ্যে আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি কিস্তি পরিশোধে ব্যয় করে এমন পরিবারের হার ২২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে দরিদ্রতম ২০ শতাংশ পরিবারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। এই শ্রেণির যেসব পরিবার আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি কিস্তি পরিশোধে ব্যয় করে, তাদের হার ৪৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৯ শতাংশ হয়েছে।

গবেষণা অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকার মোট ঋণের ৭৫ শতাংশই আসে এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান থেকে। কিন্তু এনজিওর কৃষিঋণের মাত্র ৪ থেকে ৬ শতাংশ এককালীন বা ফসল কাটার পর পরিশোধের সুযোগ থাকে। বাকি ঋণের বড় অংশ সাপ্তাহিক বা মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয়। ফলে কৃষি থেকে আয় আসার সময়ের সঙ্গে কিস্তি পরিশোধের সময়ের অসামঞ্জস্য দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর নিয়মিত আর্থিক চাপ তৈরি করে।

ঋণদাতার সংখ্যা বাড়লেও বাজারে সুদের হারে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়নি বলে গবেষণায় বলা হয়েছে। ব্যাংক থেকে ১০ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া গেলেও এনজিওর ঋণে সুদের হার ১৫ শতাংশ (ফ্ল্যাট), যার কার্যকর সুদের হার প্রায় ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে, মহাজনি ঋণের সুদের হার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত, যা এক দশক ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে।

ঋণদাতার সংখ্যা বাড়লেও বাজারে সুদের হারে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়নি বলে গবেষণায় বলা হয়েছে। ব্যাংক থেকে ১০ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া গেলেও এনজিওর ঋণে সুদের হার ১৫ শতাংশ (ফ্ল্যাট), যার কার্যকর সুদের হার প্রায় ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে, মহাজনি ঋণের সুদের হার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত, যা এক দশক ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে।

অন্যদিকে গ্রামীণ কৃষি উদ্যোক্তাদের কৃষিঋণের চাপ সবচেয়ে বেশি। যেসব খামারের জমির পরিমাণ আধা একর বা তার কম, সেগুলোতে ২০১০ সালে একরপ্রতি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার টাকা। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৫০০ টাকায়, যা ১২ বছরে দ্বিগুণেরও বেশি।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এনজিওর কিস্তি পরিশোধ এবং জরুরি নগদ অর্থের প্রয়োজন মেটাতে অনেক পরিবারকে মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে। মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে একই সঙ্গে এনজিওর ঋণ রয়েছে এমন পরিবারের হার ২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৯ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ, এক ঋণের কিস্তি পরিশোধে নতুন ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। এতে দরিদ্র পরিবারগুলোকে বহুমাত্রিক ঋণের চাপে ফেলছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি সচিব মো. সেলিম খান বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ, নির্ভুল কৃষি ও বাণিজ্যিক কৃষির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে স্বল্পমূল্যে সেচ সুবিধা, স্বল্প সুদে কৃষিঋণ, বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা, বিনা মূল্যে সার ও কীটনাশক, সেচের জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা এবং বালাই দমনে পরামর্শ। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ফেনী ও টাঙ্গাইলে দুটি কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করেছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত