ভোলায় খতিয়ানের তথ্য দিতে ঘুষ দাবির অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে খতিয়ানের তথ্য ও অনুলিপি দেওয়ার নামে অতিরিক্ত টাকা দাবি এবং দরকষাকষির অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমান ও তার ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দেওয়া মো. রাকিবের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, টাকা দিয়েও ১৮টি খতিয়ানের মধ্যে ১৬টির অনুলিপি পেয়েছেন তিনি। নেওয়া টাকার কোনো রসিদও দেওয়া হয়নি।

অভিযোগকারী সবুজ মুসলমান জানান, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সাচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দাগ নম্বরের মাধ্যমে এসএ খতিয়ানের তথ্য সংগ্রহ করতে যান তিনি। এ সময় অফিসের সহায়ক হিসেবে পরিচয় দেওয়া মো. রাকিব তাকে জানান, খতিয়ান খুঁজে পেতে কয়েক দিন সময় লাগবে এবং কাজটি বেশ ঝামেলার। পরে কিছু খরচ দিলে খতিয়ান খুঁজে দেওয়ার কথা বললে তিনি রাকিবকে ৩০০ টাকা দেন। এরপর ১৮টি খতিয়ানের তথ্য পাওয়া যায়।

সবুজ জানান, খতিয়ানগুলোর অনুলিপি পাওয়া যাবে কি না জানতে চাইলে তাকে রোববার অফিসে আসতে বলেন রাকিব। নির্ধারিত দিনে গেলে ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমান জানান, এসব খতিয়ানের অনুলিপি দেওয়ার নিয়ম তাদের নেই। তবে প্রতিটি খতিয়ানের জন্য ২০০ টাকা করে মোট ১ হাজার ৮০০ টাকা দিতে হবে বলে জানান তিনি। পরে দরকষাকষির একপর্যায়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন সবুজ।

তিনি আরও জানান, পরে ১ হাজার টাকা দিলে রাকিব খতিয়ানের নথির ছবি তুলে একটি কম্পিউটারের দোকানে পাঠান। সেখান থেকে অনুলিপি প্রিন্ট করে আনতে বলা হয়। দোকানে আরও ১০০ টাকা দিয়ে ১৮টির মধ্যে ১৬টি খতিয়ানের অনুলিপি সংগ্রহ করেন তিনি। বাকি দুটি না পেয়ে আবার ভূমি অফিসে গেলে তাকে পরদিন সোমবার আসতে বলা হয়। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পাননি তিনি।

সবুজ মুসলমানের অভিযোগ, খাজনা, খতিয়ান ও নামজারির মতো ভূমিসেবা নিতে সরকারি ফি-এর বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। তার মতো অনেক সেবাপ্রত্যাশী টাকা দিয়ে সেবা নিতে বাধ্য হন।

অভিযোগকারী জানান, সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টার পর সাচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কর্মকর্তা বজলুর রহমানের দেখা পাননি। পরে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বজলুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, ‘এটা দেওয়ার কোনো এখতিয়ার আমাদের নাই। এটা রেকর্ড রুম থেকে সহিমোহর আনতে হবে। আমরা আপনাদের সহযোগিতার জন্য মাঝে মধ্যে দিয়ে থাকি।’ ভিডিওতে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘ভাই, আপনার ওই ১৮০০ টাকাই দিতে হবে।’ পরে তিনি ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মো. রাকিব বলেন, তিনি স্থায়ী কোনো পদে চাকরি করেন না। ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমান তাকে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করান। কাজের ক্ষেত্রে কেউ খুশি হয়ে যা দেন, তা-ই রাখেন বলে দাবি করেন তিনি। কারও কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেন না বলেও জানান রাকিব।

সবুজের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে রাকিব বলেন, তিনি ৫০০ টাকা চেয়েছিলেন। তবে সবুজ খুশি হয়ে তাকে ৩০০ টাকা দিয়েছেন। এটি কোনো সরকারি ফি নয়। ওই দিন বজলুর রহমান অফিসে আসেননি বলেও দাবি করেন রাকিব।