হযবরল বিওএতে

একের পর এক কার্যনির্বাহী সদস্য পদত্যাগ করছেন। কাউকে না জানিয়ে বিদেশের কনফারেন্সে নিজের নাম দিচ্ছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাপরিচালক ব্রি. জেনারেল (অব.) এবিএম শেফাউল কবির। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যে সব ক্রীড়া ফেডারেশনের নতুন কাউন্সিলর চেয়ে চিঠিও দিয়েছেন তিনি। যে বিষয়ে জানেন না কেউ। সামনেই এশিয়ান ইনডোর অ্যান্ড মার্শাল আর্ট গেমস। আর্থিক নিশ্চয়তা না পেয়ে অনুশীলন শুরু করতে পারছে না ফেডারেশনগুলো। এমন হযবরল অবস্থা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অনত্যম অভিভাবক সংস্থাটির।

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে (বিওএ) একের পর এক পদত্যাগের ঘটনায় অস্থিরতা বাড়ছে। গত তিন দিনে আট কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে সর্বশেষ গতকাল পদত্যাগ করেছেন বিওএর সদস্য ফারহাদ জেসমিন লিটি ও সহসভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী।

বিওএর অভ্যন্তরে এখন দুটি ধারা তৈরি হয়েছে। অধিকাংশ কর্মকর্তা একদিকে থাকলেও মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এবিএম শেফাউল কবিরের অবস্থান ভিন্ন বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির এক কর্মকর্তা। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, সংশ্লিষ্টদের না জানিয়ে রাশিয়া ও অন্য একটি দেশে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য নিজের নাম পাঠিয়েছেন মহাপরিচালক। বিওএর ব্যাংক হিসাবের চেকে নিজের স্বাক্ষর ব্যবহারের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ফেডারেশনে নতুন কাউন্সিলর চেয়ে পাঠানো চিঠিতে তার স্বাক্ষর রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে বিওএর মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা অবগত নন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’ তিনি যোগ করেন, ‘এখনি তিনি কীভাবে কাউন্সিলর চেয়ে চিঠি দিতে পারেন। আমরা সবাই তো পদত্যাগ করতে পারি।’

কাল দুপুরে বিওএ ভবনে মহাসচিবের কক্ষে নির্বাহী কমিটির ১০ জনের বেশি সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সেখানে হাসানুজ্জামান খান বাবলু ছাড়া উপস্থিত অন্যদের কেউ বর্তমানে কোনো ক্রীড়া ফেডারেশনের কমিটিতে নেই। প্রায় দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তারা বিওএর চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। একসঙ্গে এত কর্মকর্তার উপস্থিতি ও আলোচনার কারণ জানতে চাইলে মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা বলেন, ‘গত দুই দিনে ছয়জন পদত্যাগ করেছে, আজও (গতকাল) পদত্যাগ হয়েছে। সবারই জিজ্ঞাসা ছিল, তাহলে কী হবে? এ জন্য একসঙ্গে বসে গঠনতন্ত্র পড়ে সবাইকে বলা হয়েছে, সামনে নির্বাহী কমিটির সভায় পদত্যাগপত্রগুলো উঠানো হবে। সেখানে গৃহীত হলে পরে আইওসিকে জানানো হবে। আইওসির নির্দেশনা অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ।’

বিওএর নির্বাহী কমিটির মেয়াদ চার বছর। ৩৬ সদস্যের বর্তমান কমিটি গঠিত হয়েছিল ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর। এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আটজনের পদত্যাগ সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। নির্বাহী কমিটির সভা পর্যন্ত পদত্যাগের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।

এদিকে এশিয়ান গেমস উপলক্ষে বিওএ ২০ কোটি টাকা চেয়েছিল সরকারের কাছে। কিন্তু পুরো অর্থ এখনো পায়নি বিওএ। তাই আর্থিক সংকটে ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান ইনডোর অ্যান্ড মার্শাল আর্ট গেমস উপলক্ষে অনুশীলন শুরু করতে পারছেন না ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বিওএর কাছ থেকে অনুশীলনের অর্থ চেয়েছি। কিন্তু তারা সরকারের কাছ থেকে সমন্বয়ের অর্থ পায়নি বলে আমাদের দেয়নি। এশিয়ান গেমসের অনুশীলনের জন্য আমরা পুরো অর্থ পাইনি। তাহলে এখন অর্থের নিশ্চয়তা না পেয়ে কিভাবে অনুশীলন শুরু করব।’

বিওএর নবনির্বাচিত কমিটির শুরু থেকেই মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা ও সহসভাপতি মেজর ইমরোজকে ঘিরে সমালোচনা ছিল। তারা ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ফেডারেশনের কমিটি পুনর্গঠনের জন্য গঠিত সার্চ কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। রানা ছিলেন ওই কমিটির আহ্বায়ক। সার্চ কমিটি ফুটবল ও ক্রিকেট বাদে অন্যান্য ফেডারেশনের কমিটি পুনর্গঠন করে। অভিযোগ রয়েছে, সার্চ কমিটির মনোনীত ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ পরবর্তী সময়ে বিওএর কাউন্সিলর হন। এ নিয়ে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নও উঠেছিল।