পিএসজির ইতিহাদ জয় রিয়ালের রোম রোমাঞ্চ

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫০ এএম

শেষ বাঁশি বাজার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত কী হতে চলেছে, তা অনুমান করাও ছিল অসম্ভব। রোমের অলিম্পিকোতে ৮০ মিনিট পর্যন্ত কোণঠাসা থাকার পর শেষ সাত মিনিটের ঝড়ে ৩-১ স্কোরলাইন থেকে ৪-৩ গোলের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ঠিক একই সময়ে, ম্যানচেস্টারের ইতিহাদ স্টেডিয়ামে সিটির বিপক্ষে প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের দাপট দেখাল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। রেকর্ডের ছড়াছড়ি আর অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের এমন দিনে ইউরোপজুড়ে বইল ফুটবলের উত্তাপ।

৭ মিনিটের ঝড়ে রোমে রিয়ালের অবিস্মরণীয় জয় : স্তাদিও অলিম্পিকোর গ্যালারিতে হোসে মরিনহোর বিশালাকার ব্যানার ঝুলিয়ে স্বাগতিক দর্শকরা সাবেক কোচকে সম্মান জানালেও ডাগআউটের লড়াইয়ে ৮০ মিনিট পর্যন্ত কোণঠাসা ছিল তার। মার্টেন ডি রুন ও দোনিয়েল মালেনের জোড়া গোলে প্রথমার্ধেই ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে মরিনহোর দলকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছিল রোমা। এর মাঝে রিয়ালের হয়ে শততম ম্যাচে গোল করে ইতিহাসের কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে ৭২ গোলের রেকর্ড গড়েন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

তবে ম্যাচের আসল রোমাঞ্চ জমে ওঠে শেষ সময়ে। মরিনহোর তিন বদলি চাল, আরদা গুলের, এনদ্রিক ও কার্লোস এসপির কল্যাণে বদলে যায় চিত্রনাট্য। ৮৩ মিনিটে এসপির গোলের পর ৮৫ মিনিটে মাপা হেডে রিয়ালকে সমতায় (৩-৩) ফেরান ব্রাজিলিয়ান তরুণ এনদ্রিক। আর ৯০তম মিনিটে সাবেক রোমা ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার নিখুঁত ফ্লিকে ৪-৩ গোলের জয় নিশ্চিত করেন। মাত্র সাত মিনিটের এই তাণ্ডবে ওলিম্পিকোর গ্যালারিতে নেমে আসে শ্মশানের নীরবতা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রথমার্ধের ব্যর্থতা নিজের কাঁধে নিয়ে রিয়াল কোচ মরিনহো বলেন, ‘প্রথমার্ধের ব্যর্থতা পুরোপুরি কোচের ভুল ছিল, আর দ্বিতীয়ার্ধের ঘুরে দাঁড়ানো খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব। রোমা অসাধারণ খেলেছে, তবে ৯০ মিনিট তারা সেই তীব্রতা ধরে রাখতে পারেনি।’

হালান্ডের রেকর্ডের রাতে সিটিকে হারাল পিএসজি : ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত ম্যানচেস্টার সিটিকে প্রথমার্ধেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে পিএসজি। দেজিরে দুয়ে, উসমান দেম্বেলে ও ভিতিনহার তিন গোলের ঝড়ে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় লুইস এনরিকের দল।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন আর্লিং হালান্ড। ৫৩ মিনিটে নিজের প্রথম গোল করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে বয়সের হিসেবে দ্রুততম (মাত্র ৬০ ম্যাচে) ৬০ গোলের বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি, যা এতদিন ৮০ ম্যাচে করা লিওনেল মেসির দখলে ছিল। পরবর্তী সময়ে হালান্ড আরও একটি গোল করলেও দোন্নারুম্মার ভুল ও সিটির ভঙ্গুর রক্ষণের সুযোগ নিয়ে ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফরাসি জায়ান্টরা।

ঘরের মাঠে এমন হারেও অবশ্য আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন না সিটি কোচ এনজো মারেস্কা। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘প্রথমার্ধের জন্য আমরা দুঃখিত, তবে দ্বিতীয়ার্ধে আমরা খুব কাছাকাছি চলে এসেছিলাম।’ অন্যদিকে জয়ী দলের কোচ লুইস এনরিকে জানান, প্রথমার্ধে আমরা অনেক ভালো খেলেছি, তবে এই পর্যায়ের ফুটবলে ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকলেও জয় নিশ্চিত থাকে না। কারণ জয়ের তাড়নায় দ্বিতীয়ার্ধে ২৭টি শট শাণায় সিটিজেনরা, তবে ভাগ্যটাও ছিল এদিন পিএসজির পক্ষেই।

বারকোলার হ্যাটট্রিকে লিভারপুলের গোলবন্যা : রাতের অন্য ম্যাচে অস্ট্রিয়ার রাফেইসেন অ্যারেনায় স্বাগতিক এলএএসকের বিপক্ষে ৬-৩ গোলের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে লিভারপুল। অল রেডদের হয়ে চড়া দামে ক্লাবে আসা ফরাসি ফরোয়ার্ড ব্র্যাডলি বারকোলা উপহার দেন দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক। অ্যানফিল্ডের দলটির হয়ে এটিই তার প্রথম গোল ও প্রথম হ্যাটট্রিক। এ ছাড়া অল রেডদের বড় জয়ের রাতে বাকি গোলগুলো করেন রোনাল্ড আরাউহো, জেরেনি ফ্রিমপং এবং লুইস কুমাস।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত