২৬ বছর পর বাংলাদেশে বসছে আন্তর্জাতিক নারী হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতা। রবিবার থেকে পল্টনের হ্যান্ডবল জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে চারজাতির ‘আইএইচএফ নেশনস ট্রফি’। প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার তত্ত্বাবধানে রয়েছে আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল ফেডারেশন (আইএইচএফ)।
২০০০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত মেয়েদের দক্ষিণ এশিয়ান হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ বিরতির পর দেশের মাটিতে আরেকটি আন্তর্জাতিক আসরকে ঘিরে এবারও আশাবাদী স্বাগতিকরা। রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ১৮, ১৯ ও ২০ অক্টোবর প্রতিদিন দুটি করে লিগ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। লিগ পর্ব শেষে ২১ অক্টোবর ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচ এবং ২২ অক্টোবর ফাইনালের মধ্য দিয়ে স্বর্ণপদকের লড়াই অনুষ্ঠিত হবে।
ছয় দলের টুর্নামেন্ট হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নাম প্রত্যাহার করেছে ইয়েমেন। খেলোয়াড়সংক্রান্ত জটিলতায় আসতে পারছে না আফগানিস্তান। বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহম্মেদ বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আফগানিস্তান দলে ৫ জন ইরানের পাসপোর্টধারী ছিল, যেটা আইএইচএফ অনুমোদন করে না। তাই আমরাও তাদের দাবি মেনে নিইনি। আমাদের মূল লক্ষ্য এখন আসন্ন এসএ গেমস। আগের দুবার আমরা নেপালের সঙ্গে পেরে উঠিনি, এবার গেমসে নিশ্চিতভাবেই ভালো করতে চাই।’
এবারই প্রথম কোনো বিদেশি কোচের অধীনে নিবিড় অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ দল। ফাইনালে খেলার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী অধিনায়ক ইসমেতারা নিশি, ‘এবারই আমরা প্রথমবার বিদেশি কোচের অধীনে অনুশীলন করেছি। আমাদের আশা ফাইনাল খেলব। তবে মালদ্বীপ এবং নেপাল খেলায় অনেক উন্নতি করছে। নেপালের আটজন খেলোয়াড় আর্মি দলের হয়ে খেলে, তারা অবশ্যই শক্ত প্রতিপক্ষ। তাই শুধু ভারতকে নিয়ে ভাবলেই হবে না, প্রতিটি ম্যাচেই সেরাটা দিতে হবে।’
স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো কেবল এই টুর্নামেন্টের সাফল্যেই থেমে থাকতে চান না, তার মূল মনোযোগ বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবলের শক্ত ভবিষ্যৎ ভিত গড়ে তোলা, ‘আমরা কেবল এই টুর্নামেন্ট জেতার জন্যই নয়, বরং বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দলের ভবিষ্যৎ ও আসন্ন প্রতিযোগিতাগুলোর ভিত শক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছি। আমরা সঠিক পথেই আছি।’