নাজিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ কে এম ফয়সাল আহমেদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে অনাস্থা জানিয়েছেন সমিতির একাংশের সদস্যরা। এ ঘটনায় বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর লিখিত অনাস্থাপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নাজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি রুবানা আক্তারের স্বাক্ষরে অনাস্থাপত্রটি জমা দেওয়া হয়। এতে অভিযোগ করা হয়, বর্তমান সভাপতি দীর্ঘদিন ধরে সমিতির গঠনতন্ত্র ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত। তার স্বেচ্ছাচারিতা, শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, আর্থিক দুর্নীতি ও শিক্ষকদের হয়রানিসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

অনাস্থাপত্রে সভাপতির বিরুদ্ধে ১০টি সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বিটিটিপি তালিকা-বাণিজ্য, শোকজ প্রত্যাহারের নামে প্রতারণা, মৌখিক ডেপুটেশন ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়, বিজয় মেলার অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দে চাঁদাবাজি, সাংবাদিকদের মাধ্যমে শিক্ষকদের ব্ল্যাকমেইল, বই বিতরণ বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ, অসুস্থ শিক্ষকের ছুটিতে বাধা এবং পদোন্নতি ও এসিআর-বাণিজ্যের অভিযোগ।

অনাস্থা প্রদানকারী সদস্যদের পক্ষে আবেদনকারী ও নাজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি রুবানা আক্তার বলেন, শিক্ষকরা কোনো কাজে সভাপতির কাছে গেলে তিনি টাকার প্রস্তাব দেন। এ ছাড়া পিটিআইতে প্রশিক্ষণে যেতে কিংবা তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাকে টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী সভাপতি মো. জামিল হোসেন জানান, ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি উপজেলা কমিটি গঠিত হলেও বর্তমান সভাপতি কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো সভা করতে পারেননি। এতে সংগঠনের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণে সভাপতির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটিকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আবুল কাশেম অনাস্থাপত্র পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, নাজিরপুর উপজেলা সভাপতির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাঁর কর্মকাণ্ডে কেন্দ্রীয় কমিটি অসন্তুষ্ট। এ বিষয়ে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, অভিযুক্ত নাজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ কে এম ফয়সাল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। কেন্দ্রীয় কমিটি এ বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবে, তিনি তা মেনে নেবেন।