দিল্লিতে এসআইআরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, আটক শতাধিক

ভারতের নয়াদিল্লিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরোধিতা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে ১০০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। 

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) সদর দফতর অভিমুখে আয়োজিত এক প্রতিবাদ মিছিল থেকে তাদের আটক করা হয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত 'এসআইআর' প্রক্রিয়ার কারণে ভোটার তালিকা থেকে বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তারা এটিকে 'ভোট চুরি' হিসেবে আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে এই প্রক্রিয়া বাতিল এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানান।

ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক এবং নাগরিক সমাজের একাধিক সংগঠনের যৌথ মঞ্চ 'পিপলস এগেইনস্ট এসআইআর' এবং সংযুক্ত কিষান মোর্চার ডাকে এই মিছিল বের করা হয়। মিছিলে সিপিআইএম নেত্রী বৃন্দা কারাত, সিপিআই নেত্রী অ্যানি রাজাসহ একাধিক বামপন্থী ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা যোগ দেন।

মিছিলটি গোল ডাকখানা এবং গোল মার্কেট হয়ে অশোকা রোডের দিকে যাওয়ার সময় বাংলা সাহিব গুরুদ্বারের কাছে পুলিশ বহুস্তরীয় ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকায়। ওই এলাকায় আগে থেকেই গণজায়েত নিষিদ্ধ করে বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছিল। বাধা পেয়ে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় বসে পড়েন। এরপর পুলিশ জোরপূর্বক বৃন্দা কারাতসহ শতাধিক আন্দোলনকারীকে টেনে-হিঁচড়ে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।

এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লির ট্রাফিক পুলিশের তরফ থেকে দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কনট প্লেস, পার্লামেন্ট স্ট্রিট এবং প্যাটেল চক এড়িয়ে চলার জন্য সাধারণ মানুষকে আগাম পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে আগে থেকেই সতর্ক ছিল পুলিশ। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্য দিল্লি জুড়ে জোরদার করা হয়েছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শুক্রবার দুপুর ১টায় বাংলা সাহিব গুরুদ্বার, গোল ডাকখানা এবং গোল মার্কেট হয়ে নির্বাচন সদনের দিকে মিছিল করার কথা ছিল বিক্ষোভকারীদের। তার আগে থেকেই ওই চত্বরে প্রচুর পরিমাণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পিটিআই এর খবর অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের মিছিল এগোতে শুরু করলে বাংলা সাহিব গুরুদ্বারের কাছে ব্যারিকেড করে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। বাধা পেয়ে সেখানেই সিইসি জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবিতে স্লোগান তুলতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ তুলেও ওঠে স্লোগান। সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাতও যোগ দেন মিছিলে।

তিনি বলেন, ‘এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমাদের মূল দাবি, এসআইআর বন্ধ করা এবং ভোট চুরি আটকান। ভোট দিতে পারাটি হল একটি সাংবিধানিক অধিকার। আপনারা (কেন্দ্র) সেই অধিকারের উপর আঘাত হানছেন। প্রতিদিন নতুন নতুন প্রমাণ সামনে আসছে, তবুও আপনারা একই কাজ করে চলেছেন।’