নারী ক্রিকেটারের যৌন হয়রানির অভিযোগে সত্যতা, মঞ্জুরুলের রিট খারিজ

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের আনা যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি। জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার এবং নারী দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ এবং রূঢ় ও অসদাচরণ, এই দুটি সুনির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। 

তদন্তে উঠে আসা এই দুই ধরনের আচরণই যৌন হয়রানির আওতাভুক্ত বলে আজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। এদিকে বোর্ডের আজীবন নিষেধাজ্ঞার শাস্তির বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েও কোনো সুরাহা পাননি মঞ্জুরুল; হাইকোর্টে তার দুটি রিট আবেদনই খারিজ হয়ে গেছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। জাহানারা আলমের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তারিক উল হাকিমের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বিসিবি। কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাইমা হক, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান, ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা এবং বিসিবির পরিচালক রুবাবা দৌলা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

দীর্ঘ তদন্ত ও উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনার পর কমিটি তাদের প্রতিবেদন প্রস্তুত করে বোর্ডের কাছে জমা দেয়। যার ভিত্তিতে পরিচালনা পর্ষদ মঞ্জুরুলকে বিসিবির সরাসরি বা পরোক্ষ কর্মসংস্থান এবং ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

মঞ্জুরুলের দায়ের করা রিট খারিজ হওয়া এবং বিসিবির আইনি অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করে দৈনিক দেশ রূপান্তরকে ব্যারিস্টার মাহিন বলেন, ‘বিসিবির সিদ্ধান্তের পরই তিনি রিট আবেদন করেন। আবেদন দুটি বেশ আগেই খারিজ হয়েছে, সম্ভবত তিন বা চার মাস আগে। সুনির্দিষ্ট তারিখ এখন মনে নেই এবং ওই দুটি মামলায় বিসিবির পক্ষে আইনজীবীরা নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নেন।’

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন আলাদা বেঞ্চ রিট খারিজের এই আদেশ দিয়েছে বলেও জানান ব্যারিস্টার মাহিন। 

এদিকে তদন্তের বিবরণী বা পুরো প্রতিবেদন কেন প্রকাশ্যে আনা হয়নি, তার ব্যাখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী মাহিন রহমান জানান, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করেই বিসিবি যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা বাস্তবায়ন করেছে। সংবেদনশীল এই প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সুরক্ষার অধিকার জড়িয়ে থাকে, যার ফলে এসব নথি জনসমক্ষে প্রকাশের সুযোগ নেই। তবে মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে আলাদাভাবে ফৌজদারি মামলা দায়েরের সুযোগ এখনও রয়েছে।