ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে আগামীকাল ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর আসর ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ’। ঘরের মাঠে শিরোপা পুনরুদ্ধারের এই মিশনে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে ভূটানের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। তবে উদ্বোধনী ম্যাচটি অবশ্য একই দিনে বিকেল সাড়ে তিনটায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার।
আট বছর পর আরও একবার যখন দক্ষিণ এশিয়ার এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই বাংলাদেশের সেখানে আরও একবার শিরোপা জিততে মরিয়া স্বাগতিকরা। তবে এখন থেকে প্রায় তিন যুগ পেছনে গেলে, এই টুর্নামেন্টের সূচনালগ্ন বা ইতিহাস বেশ ভিন্ন এক গল্প বলে।
দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ এই আসরে ১৯৯৩ সালে পাকিস্তানের লাহোরে যখন সাফের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তখন বাংলাদেশ সেই উদ্বোধনী আসরে ছিল না। মাত্র চারটি দেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও পাকিস্তানকে নিয়ে শুরু হওয়া সেই প্রতিযোগিতাই আজকের দিনে রূপ নিয়েছে পুরো অঞ্চলের সবচেয়ে আকর্ষক ফুটবল উৎসবে।
সময়ের বিবর্তনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ১৯৯৭ সালে ‘সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন গোল্ড কাপ’ এবং পরবর্তীতে ২০০৮ সাল থেকে ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ’ নামে পরিচিতি পাওয়া এই টুর্নামেন্টের মুকুট এখন ভারতের মাথায়। ১৪ আসরের মধ্যে ৯ বারই শিরোপা ঘরে তোলা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত এবারও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। বাংলাদেশ জিতেছে একবারই। ২০০৩ সালে। তখন টুর্নামেন্টের নামটা ছিল সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন গোল্ড কাপ আর সেবারও আসরটি বসেছিল বাংলাদেশে।
টুর্নামেন্টের এবারের সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে ‘এ’ গ্রুপ গঠিত হয়েছে, যেখানে ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ।
সবার আগে ঢাকায় ভুটান
টুর্নামেন্টের ছয় দলের এই লড়াইয়ে অংশ নিতে সবার অনেক আগেই গত সোমবার ঢাকায় এসে পৌঁছেছে ভুটান দল। তাদের বিপক্ষেই নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে হামজারা। গত জুনে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের আগে এই মাঠেই ভুটানকে ২-০ গোলে হারানোর সুখস্মৃতি রয়েছে বাংলাদেশের, যে ম্যাচে লাল-সবুজ জার্সিতে নিজের প্রথম গোলটি করেছিলেন হামজা চৌধুরী। ঘরের মাঠের এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে ২০০৩ সালের পর দীর্ঘ খরা কাটিয়ে আবারও সাফের শিরোপা নিজেদের করে নিতে মুখিয়ে আছে টমাস ডুলির দল।
‘বাংলাদেশই ফেভারিট, ফাইনালে দেখা হতে পারে’: ভারত কোচ
টুর্নামেন্টে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসলেও নিজেদের পুরো শক্তির দল নিয়ে ঢাকায় আসতে পারেনি ভারত। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ এবং ঘরোয়া আইএসএলের ব্যস্ততার কারণে দশটি ক্লাব থেকে খেলোয়াড় না পাওয়ায় মূলত দ্বিতীয় সারির একটি দল নিয়েই ঢাকায় পা রেখেছে তারা। তবে এত কিছুর পরও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য থেকে একচুলও নড়ছেন না কোচ নওশাদ মুসা।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় পৌঁছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভারতের কোচ মুসা সরাসরি জানিয়ে দেন যে, হামজা ও শমিতদের নিয়ে গড়া বর্তমান বাংলাদেশ দলই এই টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট।
বাংলাদেশ দলের শক্তি ও সম্ভাব্য ফাইনাল লড়াই নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ভারত কোচ আরও বলেন, ‘আইএসএলে দলগুলোর ৫ নভেম্বরের পরও খেলা আছে। এ কারণে আমি এই দলগুলো থেকে খেলোয়াড় নিতে পারিনি। এটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে, যাদের পেয়েছি, মন্দ নয়। আমাদের দলও অনেক শক্তিশালী। আপনারা যদি খেয়াল করেন, এবারের টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর একটি বাংলাদেশ। আমি জানি না, তাদের সঙ্গে কোন পর্যায়ে দেখা হবে। তবে, আশা করি, ফাইনালে আমাদের দেখা হবে।’
পর্তুগালের অনূর্ধ্ব-১৭ স্কোয়াডে বড় চমক রোনালদোর ছেলে