পাঁচ দিনের শ্রমিক আন্দোলনের পর ঢাকার অদূরে সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেখানকার বেশিরভাগ কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে বেশ কিছু কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। গতকাল সকাল থেকেই সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মৌর এবং আশুলিয়ার নরসিংহপুর, বাইপাইল, জিরাবো এলাকায় সকাল থেকে শ্রমিকরা সারিবদ্ধভাবে কাজে যোগ দেন। এ সময় পুলিশেরও নজরদারি দেখা গেছে। দিনব্যাপী শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎপাদন কার্যক্রম চলেছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এদিকে গাজীপুরে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে প্রায় ৭০ শতাংশ পোশাক কারখানা বন্ধ ছিল। তবে কিছু কারখানায় কার্যক্রম চললেও কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।
গত শনিবার থেকে ঢাকার মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু হয়। শ্রমিকরা বিভিন্ন কারখানা থেকে বেরিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। সংঘর্ষের সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় পুলিশ, শ্রমিক ও সাংবাদিকসহ অনেকই আহত হন। কিছু কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে গত বুধবার নবগঠিত ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ডিসেম্বর থেকেই পোশাকশ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। শ্রমিকরা এই বর্ধিত এই বেতন পাবেন জানুয়ারি মাস থেকে। মূলত এমন সিদ্ধান্তের পর থেকেই শিল্পাঞ্চলগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করে।
গতকাল সকালে ঢাকা-আরিচা ও আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানের পোশাক কারখানা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি খুলে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মস্থলে যোগ দিতে দেখা যায়। পাশাপাশি ঢাকা-আরিচা ও বাইপাইল, আব্দুল্লাহপুর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক দেখা গেছে। শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবির ১৩ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়।
ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়াসহ আশপাশের শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় বেশিরভাগ কারখানা বন্ধ ছিল। ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ফলে সাভার-আশুলিয়ায় শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি ছিল থমথমে।
গাজীপুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক : গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে পোশাক কারখানার প্রায় ৭০ শতাংশ বন্ধ ছিল। তবে কিছু কারখানায় উৎপাদনের চাপ বেশি থাকায় সেগুলো খোলা ছিল। গাজীপুরে গতকাল কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সতর্ক অবস্থানে ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) আমজাদ হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় জেলার ৭০ থেকে ৭২ শতাংশ কারখানা বন্ধ রয়েছে। যেসব কারখানায় কাজের চাপ বেশি, সেগুলো খোলা রেখে উৎপাদন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা শ্রমিক বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি।