আস্থাভোটের পরীক্ষার মুখে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৬:৫৪ পিএম

বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি প্রধান তেরেসা মের নেতৃত্ব নিয়ে আস্থা ভোটের আয়োজন করেছে দলটি। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দলের সংসদ সদস্যরা এ ভোটে অংশ নেবেন। ভোটাভুটি শেষ হওয়ার এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল জানা যাবে। 

বিবিসি জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে আসা নিয়ে গণভোটের পর ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রীত্বের পাশাপাশি কনজারভেটিভ দলপ্রধানেরও দায়িত্ব নিয়েছিলেন মে। আস্থাভোটে হেরে গেলে দলীয় প্রধানের পদ হারানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীত্বও হারাবেন তিনি। 

বুধবার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার এখন পর্যন্ত যা অর্জন তা নিয়েই ভোটের মুখোমুখি হব।’

তিনি বলেন, বৃটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে সংবিধানের ৫০ ধারাকে হয় সম্প্রসারণ করতে হবে নয়তো এড়িয়ে যেতে হবে। তবে গত মার্চে ইউরোপিও ইউনিয়ন থেকে বেড়িয়ে আসার সিদ্ধান্তটা সময় সাপেক্ষ। 

 বিবিসির রাজনীতি বিভাগের সম্পাদক লরা কুয়েন্সবার্গ বলেছেন, ইউরিপিও ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসতে বিলম্ব হওয়ার বিষয়টা এই ভোটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

তেরেসা মে বলেন, ঠিক এই মুহূর্তে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেশের জন্য ভালো হবে না। বরং সিদ্ধান্তটা অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকিপূর্ণ। 

দলীয় প্রধানের পদ হারালেই প্রধানমন্ত্রীত্ব থেকে সরে যেতে হবে এমনটা মনে করেন না তিনি। তিনি বলেন, আমরা বিভক্তির পেছনে এক সপ্তাহ ব্যয় করছি। অথচ এখন আমাদের একত্রে থাকার সময়। দেশের স্বার্থে সবাই এক থাকতে হবে। 

প্রধানমন্ত্রী জানান তিনি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। গণভোটে সবাইকে ভোট প্রদানের সুযোগ দিয়েছেন। এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। 

এসময় তিনি বলেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সবাইকে গণভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছি। কনজারভেটিভ পার্টি চেয়েছিল, দেশের জন্য সবাই কাজ করবে। 

তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে এই কাজগুলোকেই প্রাধান্য দিয়েছি। কাজগুলো শেষ করতে সদা প্রস্তুত। 
বিবিসি জানিয়েছে কনজারভেটিভ পার্টির সংসদীয় দলের চেয়ারম্যান গ্রাহাম ব্র্যাডির পক্ষ থেকে মে-র নেতৃত্ব নিয়ে আস্থা ভোট আয়োজনে প্রয়োজনীয় ৪৮ টোরি আইনপ্রণেতার চিঠি দেওয়া হয়। 

আগাম নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের পর গত বছরও তার নেতৃত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইইউর সঙ্গে ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন নিয়েও বেশ চাপে আছেন। ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে সমঝোতার পর যে ব্রেক্সিট পরিকল্পনা চাপিয়ে দিতে চাইছেন তা দলের ভেতরেই তুমুল সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
নেতৃত্বের পরীক্ষায় মে উৎরে গেলে নিয়ম অনুযায়ী আগামী এক বছর দলে তার বিরুদ্ধে কোনো অনাস্থা প্রস্তাব আনা যাবে না। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত